তীব্র গরমে অনেকেরই হঠাৎ নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে গ্রীষ্মের শুষ্ক আবহাওয়া ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে এই সমস্যা বাড়ে। চিকিৎসকদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি সাধারণ সমস্যা হলেও কিছু ক্ষেত্রে তা
বড় কোনো শারীরিক জটিলতার সতর্কবার্তা হতে পারে।
তীব্র গরম ও শুষ্ক বাতাসে নাকের ভেতরের আস্তরণ শুকিয়ে যায় এবং সেখানকার সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে সামান্য ঘর্ষণ বা চাপে রক্তপাত শুরু হয়। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
শুষ্ক আবহাওয়া: বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় নাকের ভেতর শুকিয়ে যাওয়া।
পানিশূন্যতা: শরীরে পানির অভাব দেখা দিলে ঝিল্লির স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়।
শারীরিক অভ্যাস: জোরে নাক ঝাড়া বা নাক খোঁচানোর ফলে সংবেদনশীল নালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।
সংক্রমণ: অ্যালার্জি বা সাইনাসের সমস্যার কারণেও এমনটা হতে পারে।
বড়দের তুলনায় শিশুরা এই সমস্যায় বেশি ভোগে। তাদের নাকের ভেতরের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এবং তারা ধুলোবালি ও রোদে বেশি থাকায় দ্রুত পানিশূন্যতার শিকার হয়।
সাধারণত ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে রক্তপাত বন্ধ হয়ে গেলে চিন্তার কিছু নেই। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে:
রক্তপাত ১০-১৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে।
বারবার একই সমস্যা দেখা দিলে এবং অতিরিক্ত রক্তপাত হলে।
শরীর অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়া বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
অকারণে ওজন কমা বা শরীরে কালশিটে দাগ পড়া।
দীর্ঘমেয়াদী এই সমস্যা অনেক সময় উচ্চ রক্তচাপ, নাকের হাড় বাঁকা, পলিপ বা রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
প্রতিরোধ ও তাৎক্ষণিক করণীয়
প্রতিরোধ: গরমে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। নাকের ভেতর আর্দ্র রাখতে পেট্রোলিয়াম জেলি বা ন্যাসাল স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। এসি রুমে ঘুমানোর সময় হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা কার্যকর।
রক্ত পড়লে: ঘাবড়ে না গিয়ে সোজা হয়ে বসুন এবং মাথা সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে রাখুন। নাকের নরম অংশ ১০ মিনিট চেপে ধরুন। এই সময় শুয়ে পড়া বা মাথা পেছন দিকে হেলিয়ে রাখা উচিত নয়, এতে রক্ত গলার ভেতরে চলে যেতে পারে।
এসআর