ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুমকি
দেন। মূলত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়ার লক্ষ্যেই ইরানকে এই চরমপত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তার পোস্টে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, মঙ্গলবার নাগাদ ইরানের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ইরান সমঝোতায় না এলে বা প্রণালিটি খুলে না দিলে দেশটিকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
বিশ্বের জ্বালানি তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে কার্যত বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই অচলাবস্থা নিরসনে ট্রাম্প ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের অবস্থান: উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যে ৪১টি দেশের সাথে বৈঠক করেছে। সেখানে প্রণালিটি বন্ধ রাখার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করা হয়।
ফ্রান্সের ভিন্নমত: তবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাঁখো যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ইরানে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ইউরোপের নেই।
গত বৃহস্পতিবার ইরানের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের দাবি, ওই সেতুটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কার্যক্রমের সামরিক সরবরাহ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এসআর