সারাদেশে চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পাশাপাশি জেনারেটর চালানোর পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত
হচ্ছে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস: জ্বালানি সংকটের কারণে চট্টগ্রামে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকাগুলোতে দিনে-রাতে ৭ থেকে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না।
জ্বালানি বরাদ্দের অভাব: উপজেলা হাসপাতালগুলোতে জেনারেটরের জন্য পৃথক কোনো জ্বালানি বরাদ্দ থাকে না। কর্মকর্তারা অন্যান্য খাতের অর্থ দিয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করলেও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং সামাল দিতে তা পর্যাপ্ত নয়।
চিকিৎসায় বিঘ্ন: ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে জরুরি বিভাগ, ল্যাব টেস্ট এবং রাতে রোগীদের সেবা প্রদান কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু ও বয়স্ক রোগীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।
পটিয়া ও রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেনারেটর চালানো সম্ভব না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে আইপিএস-এর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে আইপিএস-ও বেশিক্ষণ সেবা দিতে পারছে না।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা হাসপাতালগুলোতে লোডশেডিং কম রাখার চেষ্টা করছেন। মন্ত্রণালয় থেকে জরুরি স্থাপনাগুলোর জন্য পৃথক বিদ্যুৎ লাইন চালুর নতুন নির্দেশনা এসেছে।
চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার জানান, জ্বালানি বরাদ্দ একেবারে নেই তা নয়, তবে বর্তমান চাহিদার তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা না করায় সংকট ঘনীভূত হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
এসআর