বর্তমানে ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এটি একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত শিশুর হাঁচি-কাশি বা ব্যবহৃত জিনিসপত্রের সংস্পর্শে অন্য শিশুরাও দ্রুত সংক্রমিত হতে পারে। বিশেষ করে
অপুষ্টিতে ভোগা বা কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেক বেশি।
হামের লক্ষণ ও পর্যায়সমূহ:
সংক্রমণের ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সাধারণত লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে:
প্রাথমিক লক্ষণ: হঠাৎ তীব্র জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং কাশি।
পরবর্তী লক্ষণ: মুখ ও ঘাড়ে ছোট ছোট লাল দাগ দেখা দেয়, যা পরবর্তী কয়েক দিনে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই র্যাশ বা দানার সঙ্গে চুলকানি হতে পারে এবং কাশি দুই সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
জটিলতা ও ঝুঁকি:
সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে হাম থেকে মারাত্মক শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে, যেমন—
নিউমোনিয়া ও কানের সংক্রমণ।
তীব্র ডায়রিয়া ও বমি।
মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস), যা প্রাণঘাতী হতে পারে।
অভিভাবকদের করণীয় ও প্রতিরোধ:
দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ: লক্ষণ দেখা মাত্রই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। যেহেতু এটি ছোঁয়াচে, তাই আক্রান্ত শিশুকে অন্তত ৪ দিন আইসোলেশনে বা আলাদা রাখুন।
সঠিক যত্ন: শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করুন। বেশি করে পানি, তরল খাবার এবং পুষ্টিকর খাবার দিন।
সবচেয়ে কার্যকর উপায়: হাম প্রতিরোধের একমাত্র শক্তিশালী হাতিয়ার হলো টিকা। সময়মতো শিশুকে হামের টিকা দিন। এছাড়া ভিড় এড়িয়ে চলা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে দূরে থাকাও জরুরি।
বিভ্রান্ত হবেন না: অনেক সময় হামের র্যাশকে সাধারণ অ্যালার্জি মনে করা হয়। তবে মনে রাখবেন, অ্যালার্জি ছোঁয়াচে নয় কিন্তু হাম অত্যন্ত সংক্রামক। তাই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
এসআর
মন্তব্য করুন: