রোজার সময় আমাদের দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে হয়, যার ফলে শরীরের স্বাভাবিক
খাদ্যাভ্যাস ও বিপাক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে। সেহরি ও ইফতারে সঠিক খাবার নির্বাচন না করলে ক্লান্তি, পানিশূন্যতা ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, সীমিত ক্যালোরি গ্রহণ করেও সুস্থ ও সতেজ থাকতে নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টিকর খাবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
১. পর্যাপ্ত প্রোটিন বা আমিষ
রোজার সময় শরীর কার্বোহাইড্রেট বা চর্বির মতো প্রোটিন জমা করে রাখতে পারে না, তাই প্রতিদিনের চাহিদা অনুযায়ী প্রোটিন গ্রহণ করা জরুরি।.
উপকারিতা: এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে এবং ওজন কমানোর সময় পেশি ক্ষয় রোধ করে।
কী খাবেন: সেহরি বা ইফতারে মুরগির বুকের মাংস, ডিম, পনির, টক দই এবং বিভিন্ন ধরনের মাছ রাখতে পারেন। দিনে অন্তত ৬০ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণের চেষ্টা করুন।
২. আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
রোজায় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে অনেকেরই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়। এটি দূর করতে ফাইবার অপরিহার্য।
উপকারিতা: ফাইবার আমাদের পাচনতন্ত্র বা হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
কী খাবেন: ছোলা, ফুলকপি, ব্রোকলি, মটরশুঁটি এবং লাল চাল বা আটার তৈরি খাবার তালিকায় রাখুন। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে প্রায় ৩০ গ্রাম ফাইবার প্রয়োজন।
৩. স্বাস্থ্যকর চর্বি (Healthy Fats)
চর্বি মানেই ক্ষতিকর নয়। শরীরের শক্তি জোগাতে এবং ভিটামিন শোষণে স্বাস্থ্যকর চর্বির ভূমিকা অনন্য।
উপকারিতা: এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ওমেগা-৩ ও ভিটামিন বি১২-এর চাহিদা পূরণ করে।
কী খাবেন: রান্নায় অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া নিয়মিত বাদাম, জলপাই, অ্যাভোকাডো এবং তৈলাক্ত মাছ খাওয়ার অভ্যাস করুন।
রোজার সময় সুস্থ থাকতে সেহরি ও ইফতারে প্রচুর পানি পান নিশ্চিত করুন এবং ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।
এসআর
মন্তব্য করুন: