[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

কদমতলীতে ডাকাতির অভিযোগে অস্ত্রসহ জামায়াতপন্থি এমপির আত্মীয় গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬ ৪:৩১ পিএম

রাজধানীর কদমতলীতে ব্যবসায়ীর গাড়ি থামিয়ে সশস্ত্র হামলা, কুপিয়ে জখম এবং ১৯ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে আসাদুজ্জামান সাব্বির নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজধানী ঢাকার কদমতলী থানা এলাকায় সংঘটিত ১৯ লাখ টাকার ডাকাতি, সশস্ত্র হামলা ও কুপিয়ে জখমের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া আসাদুজ্জামান সাব্বির স্থানীয় জামায়াতপন্থি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ঢাকা-৪ এর সংসদ সদস্যের আত্মীয় বলে জানা যায়। গত ৬ মে বিকেলে সংঘটিত এই ঘটনায় র‍্যাব অভিযান চালিয়ে তাকে অস্ত্রসহ আটক করে।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ৬ মে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে ডিএমপির কদমতলী থানার ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঢাকা ম্যাচ রেললাইন সংলগ্ন কাঁচা সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ী মো. হাসান একটি প্রাইভেটকারে করে যাওয়ার সময় কয়েকজন সংঘবদ্ধ ব্যক্তি তার গাড়ির গতিরোধ করে। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীদের হাতে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা প্রথমে গাড়ি থামিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে এবং পরে পিস্তল দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করে। এরপর গাড়িতে থাকা লোকজনকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। হামলায় মো. হাসান, রনি, মোতালেব ও নয়নসহ অন্তত ৫ থেকে ৭ জন আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলার একপর্যায়ে ব্যবসার কাজে বহন করা নগদ ১৯ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতদের কয়েকজনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী পক্ষ কদমতলী থানায় মামলা দায়ের করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় র‍্যাবের একটি আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত হিসেবে আসাদুজ্জামান সাব্বিরকে আটক করে। র‍্যাবের দাবি, গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে এ ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে এখনও প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট আদালতই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে সশস্ত্র হামলা ও বড় অঙ্কের অর্থ লুটের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী কিছু চক্রের দৌরাত্ম্য রয়েছে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার পেছনে অন্য কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত আছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

এসআর

সম্পর্কিত খবর