জুলাই আন্দোলনের সময় লালবাগ থানায় দায়ের করা আশরাফুল ওরফে ফাহিম হত্যা চেষ্টা মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী-কে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
মামলায় দুই দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হলেও আদালত রিমান্ড ও জামিন উভয়ই নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরের দিকে তাকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। পরে তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয় এবং বিকেলে এজলাসে তোলা হয়।
এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে ভিড়ের মধ্যে কিছুটা ভোগান্তির মুখে পড়েন তিনি।
জানা গেছে, লালবাগ জোনের কোতোয়ালি এলাকার একটি টিমের পক্ষ থেকে তার রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান রিমান্ড আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গ্রেপ্তারের বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, তিনি বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। সর্বশেষ ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাসা থেকে মঙ্গলবার ভোরে তাকে আটক করা হয়।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানকালীন একটি হত্যাসহ মোট ছয়টি মামলার তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে এবং বাকি তিনটি মামলা তদন্তাধীন।
এদিকে, গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) প্রকাশিত তালিকায়ও তার নাম ছিল।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ২৭ দিন পর, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর স্পিকারের পদ থেকে সরে দাঁড়ান শিরীন শারমিন।
এর আগে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি প্রথমবারের মতো স্পিকার নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
এসআর