হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও চাপ তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
পরে শুক্রবার এশিয়ার বাজার চালু হলে কিছুটা কমলেও দাম এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
গ্রিনিচ মান সময় রাত ৩টা পর্যন্ত প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হয় ১০১ দশমিক ১২ ডলারে। দিনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এর দাম উঠেছিল ১০৩ দশমিক ৭০ ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা কমেনি। সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের দামে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দাবি, হরমুজ প্রণালিতে তাদের নৌবাহিনীর তিনটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারকে লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা সামরিক অভিযান পরিচালনা করে।
অন্যদিকে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ এবং আশপাশে থাকা আরেকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
এছাড়া কেশম দ্বীপসহ কয়েকটি বেসামরিক এলাকাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় বড় বড় তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংঘাতের প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই। শুক্রবার এশিয়ার শেয়ারবাজারেও বড় ধরনের চাপ দেখা যায়। জাপানের নিক্কেই ২২৫, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি এবং হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক ১ শতাংশের বেশি কমে যায়।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
আগের দিন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে যায়।
এসআর