[email protected] রবিবার, ৩ মে ২০২৬
২০ বৈশাখ ১৪৩৩

বিশ্বে বিরল ঘটনা: সন্তান যমজ কিন্তু বাবা আলাদা!

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ মে ২০২৬ ৭:২৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাজ্যের নটিংহামে ১৯৭৬ সালে জন্ম নেওয়া মিশেল ও লাভিনিয়া ওসবোর্ন নামের দুই যমজ বোনকে ঘিরে এক বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক তথ্য সামনে এসেছে। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক ধরে নিজেদের যমজ মনে করলেও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন যে, তাদের মা একজন হলেও বাবা দুজন আলাদা।

 চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অত্যন্ত দুর্লভ এই ঘটনাকে বলা হয় 'হেটারোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন'। বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত এমন মাত্র ২০টি ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে মিশেল ও লাভিনিয়াই যুক্তরাজ্যের প্রথম নথিভুক্ত উদাহরণ।

​এই বিরল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তখনই, যখন একজন নারীর শরীরে একই ঋতুচক্রে একাধিক ডিম্বাণু তৈরি হয় এবং খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ভিন্ন ভিন্ন পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের ফলে সেই ডিম্বাণুগুলো পৃথকভাবে নিষিক্ত হয়। বর্তমানে ৪৯ বছর বয়সী লাভিনিয়ার কাছে এই সত্যটি প্রথমে বেশ যন্ত্রণাদায়ক মনে হলেও মিশেল বিষয়টিকে শান্তভাবেই গ্রহণ করেছেন। তাদের মা ১৯ বছর বয়সে তাদের জন্ম দিয়েছিলেন এবং শৈশবে তারা এক আত্মীয়ের কাছে বড় হয়েছিলেন। ২০২১ সালে মায়ের স্মৃতিভ্রম বা ডিমেনশিয়া রোগ ধরা পড়লে এবং ২০২২ সালে তার মৃত্যুর দিনে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল আসার পর এই পারিবারিক রহস্যটি উন্মোচিত হয়।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, মা যাকে বাবা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি আসলে দুজনের কারোরই জৈবিক পিতা নন। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মিশেল খুঁজে পেয়েছেন তার বাবা অ্যালেক্সকে এবং লাভিনিয়া খুঁজে পেয়েছেন তার বাবা আর্থারকে। বর্তমানে লাভিনিয়া তার জৈবিক বাবার কাছাকাছি থাকলেও মিশেল তার বাবার সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী হননি। জীবনের এই অভাবনীয় মোড় এবং ভিন্ন পিতৃপরিচয় সত্ত্বেও এই দুই বোন মনে করেন, ডিএনএ তাদের পরিচয় আলাদা করলেও তাদের আত্মার গভীর সম্পর্ক এবং যমজ হওয়ার অটুট বন্ধন চিরকাল একই থাকবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর