[email protected] শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

নিষিদ্ধ শূকরের মাংসও আমদানি করতে চেয়েছিলেন ড. ইউনূস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ মে ২০২৬ ১২:৪৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিষিদ্ধ শূকরের মাংস আমদানি করতে চেয়েছিল অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বিগত অন্তর্বর্তী সরকার।

এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিতে এ বিষয়ে সম্মতিও দেওয়া হয়েছিল।

অথচ দেশের আমদানিনীতি আদেশ ২০২১-২৪ অনুসারে যে ২৬ ধরনের পণ্য নিষিদ্ধ তার মধ্যে অন্যতম হলো শূকর ও শূকরজাত সব পণ্য।

এমনকি শূকর থেকে উৎপন্ন উপজাত (বাই প্রোডাক্ট) পণ্য ব্যবহার করে তৈরি কোনো পণ্যও আমদানি কর নিষেধ বাংলাদেশে।

এটি নিষিদ্ধ হওয়ায় এই পণ্যের বাণিজ্যিক কোনো চাহিদা ও উৎপাদন নেই দেশে।

বাংলাদেশের আমদানিনীতি অনুযায়ী নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় থাকা শূকর ও শূকরজাত দ্রব্য আমদানির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে সম্পাদিত ওই চুক্তিতে এমন কিছু শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা দেশের প্রচলিত নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।


জানা যায়, ২০২১-২৪ মেয়াদের আমদানিনীতি আদেশে শূকর ও এর সব ধরনের উপজাত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এমনকি শূকরজাত উপাদান ব্যবহার করে তৈরি পণ্যও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে।

দেশে এ ধরনের পণ্যের চাহিদা অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় বাণিজ্যিক উৎপাদন বা আমদানির প্রয়োজনীয়তাও নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।


তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’-এর একটি অংশে কিছু প্রক্রিয়াজাত মাংসপণ্যকে বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে।

তালিকাভুক্ত পণ্যের মধ্যে ব্ল্যাক ফরেস্ট হ্যাম, ব্রাটভুর্স্ট, সালামি, প্রসিউটোসহ বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত মাংস রয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশই শূকরজাত বলে জানা গেছে।


এ বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন আপত্তি জানিয়েছে। তাদের মতে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে এমন শর্তে সম্মত হওয়া উচিত হয়নি। তারা এটিকে সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে দেখছেন।


এছাড়া চুক্তিতে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, বৈজ্ঞানিক বা স্বাস্থ্যগত কারণ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য স্যানিটারি পরীক্ষার মাধ্যমে আটকে রাখা যাবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শর্ত কার্যকর হলে দেশে পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও কিছু পণ্য আমদানির চাপ তৈরি হতে পারে।


অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট একটি মহল মনে করছে—যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্তের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তির বাস্তবায়ন প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

কারণ, পারস্পরিক সম্মতিতে নির্দিষ্ট সময়ের নোটিশ দিয়ে চুক্তি বাতিলের সুযোগও রাখা হয়েছে।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে শূকরের মাংসের বাণিজ্যিক উৎপাদন নেই। সীমিত পরিসরে পার্বত্য অঞ্চলের কিছু জনগোষ্ঠী ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য শূকর পালন করে থাকে।

রাজধানীর কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় অল্প পরিসরে এর ব্যবহার দেখা গেলেও তা খুবই সীমিত।


রেস্তোরাঁ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণভাবে দেশের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে শূকরজাত খাবারের ব্যবহার নেই।

খুব অল্পসংখ্যক স্থানে নির্দিষ্ট গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী সীমিত পরিসরে এটি পরিবেশন করা হয়।

এসআর

সম্পর্কিত খবর