[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
২৪ বৈশাখ ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে হু হু করে বাড়ছে পেট্রোলের দাম: নেপথ্যে হরমুজ প্রণালীর সংকট

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ মে ২০২৬ ১০:০৮ এএম

সংগৃহীত ছবি

এক সপ্তাহের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানের পেট্রোলের (রেগুলার গ্যাসোলিন) দাম গ্যালনপ্রতি ৩১ সেন্ট বেড়েছে। অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন ‘এএএ’-এর তথ্যমতে, বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন তেলের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪.৫৪ ডলারে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার

 উত্তেজনার প্রভাবে জ্বালানির এই দাম যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির তুলনায় প্রায় ৫২ শতাংশ বেশি।

​কেন বাড়ছে জ্বালানির দাম?

​বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ার প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট অচলাবস্থা।

​সরবরাহ সংকট: বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের কারণে ইরান এই পথটি কার্যত বন্ধ রাখায় তেলের ট্যাংকারগুলো আটকা পড়েছে।

​কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি: গত দুই মাস ধরে অপরিশোধিত তেলের দাম ক্রমাগত বাড়ছে, যা গ্যাসোলিন তৈরির প্রধান উপাদান। এপ্রিলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১১২ ডলারে উঠেছিল।

​মার্কিন অবরোধ: ইরান যাতে তেল রপ্তানি করতে না পারে, সেজন্য এপ্রিলে দেশটির সমুদ্রবন্দরগুলো অবরোধ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাপক হারে কমে যায়।

​মার্কিন শোধনাগারের সীমাবদ্ধতা

​যুক্তরাষ্ট্র আমদানির চেয়ে তেল রপ্তানি বেশি করলেও নিজস্ব উৎপাদন দিয়ে এই সংকট মেটাতে পারছে না। এর কারণগুলো হলো:

১. তেলের ধরন: যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলোর ৭০ শতাংশই উচ্চ সালফারযুক্ত 'ভারী তেল' পরিশোধনের উপযোগী। অথচ দেশটির নিজস্ব খনিগুলো থেকে মূলত 'হালকা তেল' (Light Sweet Crude) উত্তোলিত হয়।

২. আমদানি নির্ভরতা: পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে মার্কিন শোধনাগারগুলোকে তাদের প্রয়োজনের ৪০ শতাংশ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

​এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির মতে, হরমুজ প্রণালী যতদিন অবরুদ্ধ থাকবে, তেলের দামের ওপর উর্ধ্বমুখী চাপ বজায় থাকবে। যদিও সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক আলোচনা এবং তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নামার খবরে খুচরা বাজারে কিছুটা স্বস্তির আশা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধ থেমে গেলেও নৌ-পথে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বিমা খরচ বাড়ার কারণে তেলের দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

​উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম গ্যালনপ্রতি ৫ ডলারে পৌঁছেছিল, যা ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ রেকর্ড। বর্তমান পরিস্থিতি সেই সংকটকেও টেক্কা দেওয়ার পথে রয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর