[email protected] সোমবার, ৪ মে ২০২৬
২১ বৈশাখ ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়: নেপথ্যে ৫ ‘ম’ এর রসায়ন

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ মে ২০২৬ ৩:৪৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র আধিপত্যে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ১৫ বছর আগে ‘মা, মাটি, মানুষ’ স্লোগানে তৃণমূল কংগ্রেস যে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছিল, এবার তা পাঁচটি নতুন ‘ম’—মুসলিম, মহিলা, মাইগ্র্যান্ট (অভিবাসী), মতুয়া এবং

 বিজেপির নির্বাচনী মেশিনারির প্রভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ৪ মে ভোট গণনার প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, বিজেপি ১৯৫টি আসনে এগিয়ে থেকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার পথে রয়েছে, যেখানে তৃণমূল ১০০টি আসন পেতেই হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল নাম বাদ পড়ার বিষয়টি এবারের নির্বাচনে বাড়তি জটিলতা তৈরি করেছে।

​নারী ভোটাররা দীর্ঘকাল তৃণমূলের প্রধান শক্তি হলেও এবার আরজি কর মেডিকেল কলেজের ঘটনার প্রেক্ষাপটে নারী সুরক্ষা ইস্যুটি বড় হয়ে দাঁড়ায়। বিজেপি এই আবেগকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালায় এবং এমনকি ওই ঘটনার শিকার নারীর মাকেও প্রার্থী করে তৃণমূলের নারী ভোটব্যাংকে ফাটল ধরায়। অন্যদিকে, রাজ্যের ২৭ শতাংশ মুসলিম ভোটারের মধ্যেও এবার বিভাজন লক্ষ্য করা গেছে। মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে উন্নয়ন ও প্রশাসন নিয়ে অসন্তোষের সুযোগ নিয়েছে কংগ্রেস ও মিম (AIMIM), যা পরোক্ষভাবে তৃণমূলের ক্ষতি করেছে।

​নির্বাচনে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে মতুয়া সম্প্রদায় এবং বিপুলসংখ্যক ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিক। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় বহু অভিবাসী শ্রমিক রাজ্যে ফিরে ভোট দিয়েছেন, যা ফলাফলে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল।

এর পাশাপাশি বিজেপির শক্তিশালী বুথভিত্তিক সংগঠন, ডিজিটাল প্রচারণা এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের সমন্বিত ‘নির্বাচনী মেশিনারি’ তৃণমূলের ক্যাডার-ভিত্তিক রাজনীতিকে টেক্কা দিতে সক্ষম হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫ ‘ম’-এর এই নতুন সমীকরণই মমতার দুর্গে বিজেপির ঐতিহাসিক উত্থান নিশ্চিত করেছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর