যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রায় এক সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর লিমনের
ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং শনিবার (২৫ এপ্রিল) বৃষ্টির পরিবারও তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়েহকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ।
তদন্তে উঠে এসেছে হিশামের ভয়াবহ অপরাধমূলক অতীত। ২৬ বছর বয়সী এই মার্কিন নাগরিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র হলেও বর্তমানে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন না। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত ও চুরির একাধিক অভিযোগ ছিল। এমনকি তার নিজের পরিবারও তার সহিংস আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে আদালতের মাধ্যমে সুরক্ষামূলক নিষেধাজ্ঞা বা ‘ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স ইনজাংশন’ জারি করেছিল।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ট্যাম্পার একটি সেতু থেকে লিমনের মরদেহের অংশবিশেষ উদ্ধারের পর হিশামকে ধরতে অভিযান চালায় পুলিশ। সে সময় তিনি পুলিশের কাজে বাধা দিয়ে ঘরে নিজেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরবর্তীতে পুলিশের বিশেষায়িত ‘সোয়াট টিম’ তলব করা হলে দীর্ঘ উত্তেজনার পর তিনি আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন।
হিলসবোরো কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, আলামত নষ্ট করা, মরদেহ সরানো এবং পারিবারিক সহিংসতাসহ একাধিক অভিযোগে হিশামকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর লিমনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। অন্যদিকে, লিমনের সাথে নিখোঁজ হওয়া আরেক শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মৃত্যুর খবর তার ভাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিশ্চিত করলেও, তার নিখোঁজ হওয়ার রহস্য নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও স্থানীয় কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এসআর