আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে লোহিত সাগরসহ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অঞ্চলে সামরিক অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
দেশটির সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা আলী আবদুল্লাহি এ বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন।
বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ অব্যাহত রাখে এবং ইরানের তেলবাহী জাহাজ ও বাণিজ্যিক নৌযানের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। এমন পরিস্থিতিতে পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশকে চাপের মুখে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। রাজধানী তেহরানে জরুরি সেবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, ইরান সবসময় সংঘাত নয়, বরং সংলাপ ও স্থিতিশীলতার পক্ষে।
তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে নারী-শিশু এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ জোরদারের খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অবরোধ কার্যকর হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানগামী বেশিরভাগ জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ ধরনের অবরোধ দেশটির ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।
এসআর