[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
২ বৈশাখ ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ: সংকটে ভারতের জ্বালানি ও অর্থনীতি

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১১:২০ এএম

হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন অবরোধ আরোপের সিদ্ধান্তে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে ভারত। সম্প্রতি ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর প্রণালিটি দিয়ে চলাচলকারী ইরানি

 জাহাজগুলোর ওপর কড়া নজরদারি ও অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল ভোক্তা দেশ এবং প্রয়োজনীয় পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই তাকে আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ৫০ শতাংশ সরাসরি এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং রান্নার গ্যাস (এলপিজি)-এর সরবরাহে বড় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে শিল্পক্ষেত্রে ২০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

তেলের পাশাপাশি সারের কাঁচামাল আমদানিতেও ভারত এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। জুন-জুলাই মাসে ভারতের প্রধান বীজ বপনের মৌসুম শুরু হবে, অথচ এই সময়ে ইউরিয়া তৈরির প্রধান কাঁচামাল প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকটে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই রুটে সার সংক্রান্ত পণ্যের পরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাতের কারণে ভারতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) ২০২৭ অর্থবছরের জন্য সম্ভাব্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কমিয়ে ৬.৯ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এছাড়া আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি। ডলারে তুলনায় রুপির মান কমে যাওয়া এবং উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আসা রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

​তবে ভারত সরকার দাবি করছে, তাদের অপরিশোধিত তেল আমদানির ৭০ শতাংশ এখন আর হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে না, যার ফলে জ্বালানি সরবরাহ এখনো নিরাপদ রয়েছে। তবুও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ ও অবরোধ অব্যাহত থাকলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এসআর

সম্পর্কিত খবর