মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর বিস্তারিত স্যাটেলাইট ছবি গোপনে ইরানকে সরবরাহ করছে রাশিয়া। ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার এক মূল্যায়নে উঠে এসেছে যে, এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ইরান
বিভিন্ন দেশে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু ও তেলক্ষেত্রে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
স্যাটেলাইট নজরদারি: গত ২১ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে রুশ স্যাটেলাইট মধ্যপ্রাচ্যের ১১টি দেশের ৪৬টি স্থানে অন্তত ২৪ বার জরিপ চালিয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক, জর্দান, কুয়েত, কাতার এবং ইসরাইলের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
হামলার ধরন: গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে, রুশ স্যাটেলাইট কোনো নির্দিষ্ট স্থান পর্যবেক্ষণ করার কয়েক দিনের মধ্যেই ইরান সেখানে হামলা চালাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটির ছবি রুশ স্যাটেলাইটে ধরা পড়ার কয়েক দিন পরেই সেখানে ইরানি হামলায় একটি মার্কিন 'ই-৩ সেন্ট্রি' বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সাইবার সহযোগিতা: কেবল স্যাটেলাইট ছবিই নয়, রাশিয়া ও ইরানের হ্যাকাররা মিলে মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং জ্বালানি কোম্পানিগুলোতে সাইবার হামলা চালাচ্ছে। তারা টেলিগ্রামের মাধ্যমে একে অপরের সাথে সমন্বয় করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কৌশলগত চুক্তি: ২০২২ সাল থেকে মস্কো ও তেহরানের সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। বিশেষ করে গত বছর স্বাক্ষরিত 'কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি'র আওতায় উভয় দেশ গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করছে।
রুশ স্যাটেলাইটগুলো বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালির ওপরও কড়া নজরদারি রাখছে। এদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাইরের কোনো সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে প্রভাব ফেলছে না। তবে ইউরোপীয় নেতারা এই বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে এবং ইরানকে সামরিকভাবে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে।
এসআর