আজ ৮ মে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস।
বংশগত এই রক্তরোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে থ্যালাসেমিয়া বাহকের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখ মানুষ এই রোগের বাহক, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, থ্যালাসেমিয়া এমন একটি বংশগত রোগ, যেখানে শরীরে প্রয়োজনীয় পরিমাণ হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় না।
ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় এবং দুর্বলতা, ফ্যাকাশে ভাব, শ্বাসকষ্ট, জন্ডিস, অরুচি ও শারীরিক বৃদ্ধিতে বাধার মতো নানা সমস্যা দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতার অভাব এবং বিয়ের আগে পরীক্ষা না করার কারণে দেশে থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
একজন বাহক ও আরেকজন বাহকের মধ্যে বিয়ে হলে সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে ২৫ শতাংশ। এ কারণে বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
এবারের বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “আর নয় আড়ালে, শনাক্ত হোক অজানা রোগী, পাশে দাঁড়াই অবহেলিতদের”।
রোগটি দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় আক্রান্তদের নিয়মিত রক্ত নিতে হয়। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, একজন রোগীর প্রতি মাসে রক্ত ও ওষুধ বাবদ কমপক্ষে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। এতে অনেক পরিবার আর্থিক চাপে পড়ে। একই সঙ্গে দেশে পর্যাপ্ত রক্তদাতার সংকটও রয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলে থ্যালাসেমিয়া বাহকের হার শহরের তুলনায় কিছুটা বেশি।
বিভাগভিত্তিক হিসেবে রংপুরে এ হার সবচেয়ে বেশি, আর সবচেয়ে কম সিলেটে। তরুণদের মধ্যেও বাহক শনাক্তের হার উল্লেখযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ব্লাড ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. আশরাফুল হক বলেন, শুধু বিয়ের আগে নয়, এসএসসি বা এইচএসসি পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করানো গেলে সচেতনতা বাড়বে।
পাশাপাশি গর্ভকালীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় মায়ের থ্যালাসেমিয়া বাহক অবস্থা শনাক্ত করা গেলে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, দেশে এখনো সরকারি পর্যায়ে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সুবিধা গড়ে ওঠেনি।
এছাড়া সরকারি হাসপাতালে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য আলাদা কর্নার ও ২৪ ঘণ্টা রক্ত সঞ্চালন সেবা চালুর প্রয়োজন রয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
এতে চিকিৎসক, রোগী, রক্তদাতা, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ।
এসআর