রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ঘিরে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে।
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারের কিছু অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভিপি ও অন্যান্য সম্পাদকদের সঙ্গে তার মতবিরোধ এখন আলোচনায়।
জিএস আম্মারের দাবি, পরিষদের বেশিরভাগ সদস্য একটি নির্দিষ্ট প্যানেল থেকে নির্বাচিত হওয়ায় ভিন্ন মতের প্রতিনিধিরা যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছেন না।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজে ও আরও দুজন ভিন্ন প্যানেলের হওয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মতামত প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে প্রোগ্রাম আয়োজন ও অতিথি নির্ধারণ নির্দিষ্ট প্রভাবের মধ্যেই হয়ে থাকে। এ কারণেই একটি সাম্প্রতিক সেমিনারে তিনি অংশ নেননি বলেও জানান।
উল্লেখিত সেমিনারটি গত ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয় এবং কয়েকজন আইনজীবী অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের ব্যানারে জিএস আম্মারের নাম থাকলেও তিনি এতে অংশ নেননি।
অন্যদিকে, ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ সামাজিক মাধ্যমে জিএসের এসব বক্তব্যকে ‘অমূলক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তার বক্তব্য, ভিন্ন প্যানেলের সদস্যদের মতামত উপেক্ষার কোনো নির্দিষ্ট উদাহরণ নেই; বরং সকলেই সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, রাকসুর কার্যক্রম নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং সম্পাদকরা সম্মিলিতভাবেই সিদ্ধান্ত নেন।
ভিপির অভিযোগ, জিএস বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন, যা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির জন্য ভালো নয়। তার মতে, ব্যক্তিগত কারণে ছুটি নেওয়ার পরও একটি অনুষ্ঠানে ইচ্ছাকৃতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পরে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া দায়িত্বশীল আচরণ নয়।
রাকসুর সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হোসেন জোহাও জিএসের সমালোচনা করে বলেন, নিজের অবস্থান জোরালো করতে গিয়ে অন্যদের দোষারোপ করা হচ্ছে। তার মতে, জিএসের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত রাকসু নির্বাচনে একটি প্যানেল অধিকাংশ পদে জয়ী হয়। ২৩টি পদের মধ্যে বেশিরভাগ পদ তাদের দখলে যায়, আর বাকি কয়েকটি পদে স্বতন্ত্র ও অন্য সংগঠনের প্রার্থীরা নির্বাচিত হন।
এসআর