[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

বুটেক্সের স্টেশনারি সম্প্রসারণ উদ্যোগ আটকে আছে বাজেট সংকটে

বুটেক্স প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ৯:২১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (BUTEX)-এর কেন্দ্রীয় স্টেশনারি সম্প্রসারণ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে থমকে আছে বাজেট সংকটসহ নানা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে।

ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।


বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের নিচতলায় অবস্থিত স্টুডেন্টস কর্নারের স্টেশনারিটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন অভিযোগ। বিশেষ করে জায়গার স্বল্পতা ও জনবল ঘাটতির কারণে নিয়মিত ভিড় সামলাতে সমস্যা হচ্ছে।


এর আগে স্টেশনারিটি পুরনো টিএসসি এলাকায় থাকলেও পরে সেটি একাডেমিক ভবনের নিচতলায় স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে এখানে শিক্ষার্থীরা বই, নোট, শিট প্রিন্ট ও ফটোকপিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করেন। ক্যাম্পাসভিত্তিক হওয়ায় তুলনামূলক কম খরচ ও দ্রুত সেবার কারণে শিক্ষার্থীরা এটিকে বেশি ব্যবহার করেন।


তবে পরীক্ষার সময়, ফর্ম ফিলাপ কিংবা ল্যাব ফাইনালের সময়ে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়। ফলে স্বাভাবিক একটি কাজ সম্পন্ন করতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আল আমিন হোসাইন বলেন, “সাধারণ একটি প্রিন্ট বা কেনাকাটায় অনেক সময় ২০–৩০ মিনিট লেগে যায়। অপারেটর ও কর্মীর সংখ্যা কম হওয়ায় ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।”


টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এম এম ফাহাদ জয় জানান, “পরীক্ষা বা ক্লাসের আগে সময়ের চাপের মধ্যে স্টেশনারিতে ভিড় খুব বেশি হয়। তখন দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, জায়গাও সংকুচিত থাকায় পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়।”


তবে স্টেশনারির বর্তমান পরিস্থিতি আগের তুলনায় কিছুটা উন্নত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মীরা। কম্পিউটার অপারেটর মো. হাসান বলেন, প্রিন্টার সংখ্যা বাড়ানোয় আগের চেয়ে চাপ কিছুটা কমেছে।


স্টেশনারির পরিচালক মো. কামরুল হাসান জানান, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন মেটাতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তবে কিছু সময় পণ্য বা স্টক স্বল্পতার কারণে দেরি হলেও দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হয়।
স্টেশনারি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, পূর্বে এটি ক্যান্টিনের পেছনে স্থানান্তর ও বড় পরিসরে চালুর পরিকল্পনা ছিল। তবে পরবর্তীতে জায়গার ব্যবহার ও অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ মো. মামুন কবীর বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও বাজেট কাটছাঁটের কারণে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ফলে স্টেশনারি সম্প্রসারণ প্রকল্প বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।


তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ও প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে প্রকল্পটি পুনরায় বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের মতে, স্টেশনারি সেবার মান উন্নয়নে পর্যাপ্ত জায়গা, জনবল ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে ক্যাম্পাসে দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যে সেবা পাওয়া যায়।

এসআর

সম্পর্কিত খবর