কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা প্রায় ২০ জন শিক্ষক একযোগে পদত্যাগ করেছেন।
তাদের মধ্যে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, আবাসিক হলের প্রভোস্ট ও হাউস টিউটররা রয়েছেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে লিখিতভাবে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন।
জানা গেছে, এসব শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক বিভিন্ন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা। অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ, অযাচিত চাপ ও হুমকি প্রদর্শনের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসব কারণেই তারা সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী প্রক্টর মো. রাকিবুল আলম, সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান মো. সাবাব জুলফিকার, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তনুজা ইয়াসমিন, প্রভোস্ট মাজহারুল হক জুবায়েদ ও রোকসানা পারভীন, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান আসমা আক্তার সুমি এবং গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবীরসহ আরও অনেকে।
এছাড়াও সহকারী প্রক্টর, হাউস টিউটর, লাইব্রেরি ইনচার্জ, ক্রীড়া প্রশাসক ও রোভার স্কাউট সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে থাকা বেশ কয়েকজন শিক্ষক এই পদত্যাগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে মো. রাকিবুল আলম বলেন, তিনি প্রশাসনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবেন। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন অন্য পদত্যাগকারী শিক্ষকরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নায়লা ইয়াসমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিক্ষকরা লিখিতভাবে তাদের অসন্তোষ ও মানসিক চাপের কথা উল্লেখ করে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
বিষয়টি ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দিলীপ কুমার বড়ুয়া বলেন, পরিস্থিতিটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, একসঙ্গে এত সংখ্যক শিক্ষকের প্রশাসনিক দায়িত্ব ত্যাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
দ্রুত সমাধান না এলে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
এসআর