শিক্ষকদের পদোন্নতি ঘিরে দীর্ঘদিনের জটিলতা ও আইনি অনিশ্চয়তার কারণে ‘ফুল একাডেমিক শাটডাউনে অচল হয়ে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।
বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির ফলে সব বিভাগের ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রায় ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতি দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে।
এ দাবিতে আলটিমেটাম, অনশন ও কর্মবিরতির পর তারা পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনে যান।
তাদের মতে, সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন ও বিধিমালা হালনাগাদ ও অনুমোদন ছাড়া পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব নয়, যা পুরো প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
University Grants Commission of Bangladesh-এর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিয়োগ, পদোন্নতি ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় সংশ্লিষ্ট সংবিধি ও বিধিমালা সংশোধন করে অনুমোদন নিতে হবে।
শিক্ষকদের দাবি, বর্তমান অবস্থায় এসব বিধিমালার পূর্ণ অনুমোদন না থাকায় একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনাতেও আইনগত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে উপাচার্য অধ্যাপক Dr. Mohammad Taufiq Alam জানান, শিক্ষকেরা পুরনো নীতিমালার ভিত্তিতে পদোন্নতি চাইছেন, কিন্তু সরকার নির্ধারিত অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।
তিনি বলেন, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতি না দিলে ভবিষ্যতে অডিট জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ইতোমধ্যে সংবিধি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের পদত্যাগে প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
এই জটিলতার প্রভাব পড়েছে শিক্ষক নিয়োগেও।
প্রায় দেড় বছর ধরে বহু শূন্য পদে নিয়োগ আটকে আছে। প্রশাসনের মতে, পদোন্নতি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান হলেই নিয়োগ প্রক্রিয়াও এগোবে।
এদিকে চলমান শাটডাউনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেশনজটের আশঙ্কা বাড়ছে। নির্ধারিত পরীক্ষাসূচি ব্যাহত হওয়ায় তারা দ্রুত সমাধান চান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সীমিত পরিসরে জরুরি সনদ ও মার্কশিট সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক Dr. Mohammad Tanzimuddin Khan বলেন, নিয়মের বাইরে গিয়ে পদোন্নতি দিলে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই আইন ও নীতিমালার ভেতরে থেকেই সমাধান খোঁজার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে
এসআর