[email protected] রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত থাকবে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১০:২২ পিএম

সংগৃহীত ছবি

উচ্চ মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি জানান, সাময়িক স্বস্তির জন্য অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহের নীতি থেকে সরে এসে সরকার এখন দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) নেতৃবৃন্দ এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা অংশ নেন।


অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজারে অর্থের সরবরাহ সীমিত রাখা প্রয়োজন। অতীতে অতিরিক্ত টাকা ছাপানো ও ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতার ফলে সুদের হার বেড়েছে এবং বেসরকারি খাত চাপের মুখে পড়েছে।


তিনি আরও জানান, সরকার এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না যা বাজারে অতিরিক্ত তারল্য সৃষ্টি করে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে। বরং একটি ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনীতি নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।


অর্থনীতিতে বৈষম্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পূর্বের নীতির কারণে অর্থনৈতিক সুবিধা সীমিত কিছু গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ’-এর দিকে এগোচ্ছে সরকার।


সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীদের হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছালে তা পরিবার ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।


স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, মানুষের নিজস্ব খরচ কমানো গেলে প্রকৃত আয় বাড়ে।


এসএমই ও স্টার্টআপ খাতকে অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই খাতগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

পাশাপাশি গ্রামীণ শিল্প, কুটিরশিল্প ও সৃজনশীল খাতকে মূলধারায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


বর্তমান চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলার ঘাটতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করেন। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।


জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সম্পদের ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর