পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি এবং যুদ্ধের প্রভাবে দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। একদিকে আয় কমছে, অন্যদিকে খরচ বাড়ায় সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে মধ্যবিত্তরা
মারাত্মক আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন।
আমিষের দাম: ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ২১০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৪৩০-৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম বেড়ে হয়েছে ৮০০ টাকা। মাছের বাজারে পাঙাশ বা তেলাপিয়ার মতো সাধারণ মাছও ২০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।
তেল ও চিনি: বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। খোলা সয়াবিন লিটারপ্রতি ২১০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৫ টাকায়।
সবজি ও চাল: কোনো সবজিই এখন কেজিপ্রতি ৮০ টাকার নিচে মিলছে না। বেগুন ও পটোলের মতো সবজি ১০০-১২০ টাকায় ঠেকেছে। মোটা চালের কেজি ৫৬-৫৮ টাকা এবং সরু চাল ৮৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
এলপিজি গ্যাস: রান্নার গ্যাসের দাম এক লাফে ৩৮৭ টাকা বেড়ে ১,৭২৮ টাকা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা ২,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
১. জ্বালানি ও পরিবহণ সংকট: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের রেশনিং ও সংকটের কারণে ট্রাক ভাড়া ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা বেড়েছে।
২. আমদানি খরচ: ডলারের দাম বৃদ্ধি ও জাহাজ ভাড়া প্রায় ৬০% বেড়ে যাওয়ায় আমদানি করা পণ্যের ব্যয় বেড়েছে।
৩. বাজার সিন্ডিকেট: অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে অনেক পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, বর্তমানে মানুষের মজুরি বাড়ার হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেশি। ফলে মানুষ সঞ্চয় ভেঙে বা ঋণ করে জীবন চালাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে পুষ্টিহীনতা, শিক্ষার মান হ্রাস এবং বেকারত্ব বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বাজারে কঠোর তদারকির আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অসাধু মুনাফাখোরদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এসআর