কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় মো. হানিফ মিয়া (৩৪) নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
নিহত হানিফ মিয়া আনন্দবাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি কাঠ ব্যবসার পাশাপাশি একটি স-মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— লস্কর মিয়া (৪৫), হেলেনা বেগম (৪০), জীবন মিয়া (২৫), নাদিয়া আক্তার (২০) ও রুকিয়া বেগম (৫০)। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন এখনও পলাতক রয়েছেন।
নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাকির হোসেন হানিফকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান।
পরে রাত ১২টার দিকে হানিফ মোবাইল ফোনে স্ত্রীকে কল করে নিজের জীবন বাঁচানোর আকুতি জানান। তিনি বলেন, তাকে হত্যা করা হতে পারে।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে গেলেও অভিযুক্তদের বাড়ির গেট বন্ধ থাকায় তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ব্রহ্মপুত্র নদসংলগ্ন একটি পতিত ধানখেত থেকে হানিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী কুলিয়ারচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অভিযুক্ত লস্কর মিয়ার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাড়ির বাইরে থাকা একটি মোটরসাইকেলও পুড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পলাতক জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
পুলিশের ধারণা, এলাকায় পূর্ব বিরোধ ও মাদকসংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরীফ উদ্দিন জানান, মামলার তদন্ত চলছে এবং পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এসআর