অনিয়ন্ত্রিত পাথর ও বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি মোকাবিলায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর ও শাহ আরেফিন টিলাসহ মোট সাতটি এলাকাকে পরিবেশগত সংকটপূর্ণ এলাকা (ইসিএ) হিসেবে
ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। অন্য এলাকাগুলো হলো— রতনপুর, উৎমাছড়া, লোভাছড়া, শ্রীপুর ও লালাখাল।
পরিবেশ বিপর্যয়: দীর্ঘ আড়াই দশকে শাহ আরেফিন টিলার প্রায় ১৩৮ একর পাহাড় কেটে সমতল করে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাদাপাথর ও ধলাই নদীর উৎস মুখে ব্যাপক পাথর লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
আইনি পদক্ষেপ: ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট এক রুলে এসব এলাকাকে কেন ইসিএ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছিলেন।
প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি: পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, বর্তমানে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাকৃতিক সম্পদ মূল্যায়ন ও কারিগরি প্রতিবেদন তৈরির কাজ করছে। এই প্রতিবেদন পাওয়া গেলেই এলাকাগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসিএ ঘোষণা করা হবে।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী, কোনো এলাকা ইসিএ ঘোষিত হলে সেখানে নিম্নলিখিত কাজগুলো নিষিদ্ধ থাকবে:
বর্জ্য নিঃসরণ।
যেকোনো ধরনের খনিজ ও পাথর উত্তোলন।
মাটি ও পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা।
জাতীয় সংসদে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু সাফ জানিয়েছেন যে, বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় পাথর উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে পরিবেশবাদী সংগঠন 'ধরিত্রী রক্ষায় আমরা' (ধরা)-এর মতে, ইসিএ ঘোষণা যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। জাফলংয়ের উদাহরণ টেনে তারা জানান, ঘোষণা বাস্তবায়নে প্রশাসনিক কঠোরতা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
বর্তমানে দেশে ১৩টি ইসিএ এলাকা রয়েছে। সিলেটের এই নতুন এলাকাগুলো যুক্ত হলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং জৈববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি নজরদারি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এসআর