ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে এক রাজস্ব কর্মকর্তার মৃত্যুকে ঘিরে তদন্তে নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
এ ঘটনায় তিনজন সন্দেহভাজন ছিনতাইকারীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নিহত ব্যক্তি বুলেট বৈরাগী (৩৪), যিনি কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তা ছিলেন। তার মরদেহ কোটবাড়ি এলাকার একটি ফুটপাতে উদ্ধার করা হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকায় এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো ঘটনা—তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, নিহতের মাথার পেছনে গুরুতর আঘাতসহ শরীরে জখমের চিহ্ন রয়েছে, যা ঘটনাটিকে সন্দেহজনক করে তুলেছে। এছাড়া তিনি নির্ধারিত স্থান থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে কীভাবে পৌঁছালেন, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
র্যাবের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি একটি জটিল ঘটনা এবং বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণসহ প্রযুক্তিগত সহায়তায় ঘটনার সূত্র খোঁজা হচ্ছে। নিহতের ফোন ভোর পর্যন্ত সচল ছিল এবং পরিবারের সঙ্গে তার শেষ যোগাযোগ রাতের দিকে হয়েছিল বলে জানা গেছে।
এদিকে, ময়নাতদন্তে কিছু আঘাতের চিহ্ন মিললেও সুনির্দিষ্টভাবে মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এজন্য আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনা ও ছিনতাই—দুই সম্ভাবনাই মাথায় রেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, তবে এখনো স্পষ্টভাবে কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।
নিহতের পরিবার দাবি করেছে, মূল্যবান জিনিসপত্রের জন্য তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এবং তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তে অগ্রগতি রয়েছে এবং শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এসআর