যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাগুড়ী বেলতলা আমবাজারে মৌসুমের শুরুতেই গুটি আমের বেচাকেনা জমে উঠেছে।
বাজারে কাঁচা আমের সরবরাহ বাড়ায় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো বেড়েছে।
বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ কাঁচা আম ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০০, ১৫০০, ১৬০০ এবং উন্নত মানের ক্ষেত্রে প্রায় ১৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আকার, গুণগত মান ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে দামে এ পার্থক্য তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়দের মতে, যশোর ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকা থেকে চাষিরা তাদের উৎপাদিত আম এখানে নিয়ে আসছেন। পাশাপাশি ঢাকা, খুলনা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারি ক্রেতারাও বাজারে ভিড় করছেন। তারা এখান থেকে আম কিনে ট্রাক ও পিকআপে করে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছেন। এতে বাজারটি আঞ্চলিক আম বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, মৌসুমের শুরুতেই ভালো মানের আম বাজারে আসতে শুরু করেছে এবং প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজার স্থিতিশীল থাকলে এ বছর ভালো ব্যবসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে, যাতে ভেজাল বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি না ঘটে। তাদের লক্ষ্য, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ন্যায্য দাম পান এবং ক্রেতারাও মানসম্মত আম যুক্তিসঙ্গত মূল্যে কিনতে পারেন।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, সারা বছর অপেক্ষার পর এই মৌসুমে আম বিক্রির মাধ্যমেই অনেকের সংসার চলে এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, এ বাজারের আমের মান ভালো হওয়ায় তারা প্রতি বছর এখানে আসেন এবং বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে লাভবান হন।
সব মিলিয়ে মৌসুমের শুরুতেই বাগুড়ী বেলতলা আমবাজারে বেচাকেনার জমজমাট পরিবেশ স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসআর