সানেয়া এশিয়ান বিচ গেমস ২০২৬: চাইনিজ তাইপেকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশের নারী কাবাডি দল। চীনের সানিয়া শহরে অনুষ্ঠিত এশিয়ান বিচ গেমস ২০২৬-এর কাবাডি ইভেন্টে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী দল।
টানা দুই ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে শুধু শেষ চার নিশ্চিতই করেনি তারা, একই সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী অন্তত একটি ব্রোঞ্জ পদকও নিশ্চিত করেছে—যা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বড় সাফল্য।
চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ও পরিকল্পিত কাবাডি খেলতে দেখা যায় বাংলাদেশকে। প্রথম কয়েক মিনিটে প্রতিপক্ষ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় বাংলাদেশের মেয়েরা। নিখুঁত রেইড, দ্রুত বোনাস পয়েন্ট আদায় এবং সংগঠিত ডিফেন্স—সব মিলিয়ে একপর্যায়ে ম্যাচ একতরফা হয়ে ওঠে।

প্রথমার্ধে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে পয়েন্ট সংগ্রহ করতে থাকে। বিশেষ করে রেইডারদের আক্রমণাত্মক মনোভাব এবং ডিফেন্ডারদের ট্যাকলিং দক্ষতা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে। ফলে ২৫-১১ পয়েন্টের স্বস্তিদায়ক ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
.gif)
দ্বিতীয়ার্ধে আরও বিধ্বংসী রূপ নিয়ে ফিরে বাংলাদেশ। বিরতির পর বাংলাদেশ যেন আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে বারবার ফাঁক খুঁজে বের করে পয়েন্ট সংগ্রহ করতে থাকে দলটি। দ্রুতগতির রেইড এবং সুসংগঠিত চেইন ট্যাকলের মাধ্যমে চাইনিজ তাইপেকে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় বাংলাদেশ।
এই অর্ধে ব্যবধান দ্রুত বাড়তে থাকে। তাইপের খেলোয়াড়রা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের ধারাবাহিক আক্রমণের সামনে তা ভেঙে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ৫৯-২০ পয়েন্টের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ নারী দল—যা টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অন্যতম বড় জয়গুলোর একটি।
টানা দুই জয়, আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী থাইল্যান্ডকে ৫১-৩৪ পয়েন্টে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচেই বড় ব্যবধানে জয় দলটির আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয়, ফিটনেস এবং কৌশলগত শৃঙ্খলা—সবকিছুই এখন পর্যন্ত ইতিবাচক দিক হিসেবে সামনে এসেছে।
সেমিফাইনাল ও পদক নিশ্চিত। এশিয়ান বিচ গেমসের কাবাডি ইভেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, সেমিফাইনালে উঠলেই অন্তত ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত হয়। ফলে বাংলাদেশের নারীরা ইতোমধ্যেই একটি পদক নিশ্চিত করেছে। এখন তাদের লক্ষ্য আরও বড়—ফাইনালে উঠে স্বর্ণ বা রৌপ্য জয়ের লড়াই করা।

বাংলাদেশের নারী কাবাডি দলের সামনে নেপাল চ্যালেঞ্জ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নেপাল। এই ম্যাচটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গ্রুপ সেরা হয়ে সেমিফাইনালে তুলনামূলক সুবিধাজনক প্রতিপক্ষ পাওয়ার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের সামনে।
বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় বাংলাদেশই এই ম্যাচে ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে। তবে নেপালকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নারীদের সাফল্যের দিনে পুরুষ কাবাডি দলকে হতাশ করেছে পারফরম্যান্স। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী ইরানের বিপক্ষেও পরাজয় বরণ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ইরান ৪৭-৩১ পয়েন্টে জয় তুলে নেয়।
টানা দুই পরাজয়ে পুরুষ দলের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে গেছে। এখন তাদের সামনে চ্যালেঞ্জ ঘুরে দাঁড়ানো এবং অন্তত সম্মানজনক সমাপ্তি নিশ্চিত করা।
সবকিছু মিলিয়ে এশিয়ান বিচ গেমস ২০২৬-এ বাংলাদেশের কাবাডিতে এখন পর্যন্ত চিত্রটা মিশ্র হলেও নারী দলের পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে আশার আলো দেখাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক ভালো ফলাফল দেশের কাবাডির ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করে তুলতে পারে।
বাংলাদেশ নারী দলের এই সাফল্য শুধু একটি টুর্নামেন্টের অর্জন নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, পরিকল্পনা এবং উন্নয়নের প্রতিফলন—এমনটাই মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, এই দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখে তারা ফাইনালের পথে কতদূর এগিয়ে যেতে পারে।
এসআর