ইসলামি শরিয়তে ঈদুল আজহা বা কুরবানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। জিলহজ মাসের ১০ তারিখে সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশুর রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে মূলত মহান আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন
করেন। পবিত্র কুরআনে সালাতের পাশাপাশি কুরবানির নির্দেশ দিয়ে এর বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
তবে এই ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত হলো নিয়তের বিশুদ্ধতা বা ইখলাস। কুরবানির পশুর গোশত কিংবা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, বরং পৌঁছায় বান্দার মনের তাকওয়া ও পরহেজগারি। তাই লোক দেখানো মানসিকতা, আভিজাত্য প্রকাশ কিংবা সামাজিক যশের মোহে কুরবানি করলে তা ইবাদত হিসেবে গণ্য হয় না। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, লোক দেখানো যেকোনো কাজ বা রিয়া এক প্রকার শিরক, যা আমলকে ধ্বংস করে দেয়।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুসংবাদ অনুযায়ী, নিষ্ঠার সাথে করা কুরবানির পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায় এবং প্রতিটি পশমের বিনিময়ে সওয়াব অর্জিত হয়। আখেরাতে মুক্তির জন্য বড় পশুর চেয়ে বড় মানসিকতা এবং খাঁটি ঈমান জরুরি। তাই দুনিয়াবি কোনো চিন্তা না রেখে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আনন্দিত মনে কুরবানি করাই মুমিনের প্রকৃত পরিচয়।
এসআর