আলোচিত ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন আলোচনা ও সমালোচনার বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।
তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে নানা ভুল তথ্য ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে।
বুধবার (৬ মে) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মাদানী জানান, গোনাহ থেকে বাঁচা এবং হালাল জীবনযাপন বজায় রাখার উদ্দেশ্যেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে পোস্টটি সরিয়ে ফেলেন তিনি।
এরপর বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে দীর্ঘ এক ব্যাখ্যামূলক পোস্ট দিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দেন। সেখানে তিনি বলেন, প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এমনকি যাকে বিয়ে করেছেন, তাকে বিয়ের দিন দেখার আগ পর্যন্ত কখনও দেখেননি বা কথা বলেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের অভিযোগও অস্বীকার করেন মাদানী।
প্রথম স্ত্রীর গর্ভাবস্থার সময় দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটিরও ব্যাখ্যা দেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি বৈবাহিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল কয়েক মাস আগে।
পরে উভয়পক্ষ সম্মত হলে বিয়ে সম্পন্ন হয়। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি আগেই প্রথম স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন।
মাদানী আরও বলেন, স্ত্রীর গর্ভাবস্থার পুরো সময় তিনি পাশে ছিলেন এবং হাসপাতালে থেকেও সেবা-যত্ন করেছেন। দায়িত্ব পালনে অবহেলার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে যেকোনো সমালোচনা মেনে নেবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া আলোচনায় আসা আইএমভি নামের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি এমন নারী-পুরুষদের জন্য কাজ করে যারা স্বেচ্ছায় একাধিক বিয়েতে আগ্রহী। কারও ওপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।
সমালোচকদের উদ্দেশে মাদানী বলেন, অনেকেই ইসলামে একাধিক বিয়ের বিধান মেনে নিতে না পেরে বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত সমালোচনা করছেন। একই সঙ্গে সমাজের অন্যান্য অনৈতিক ঘটনার তুলনায় তার ব্যক্তিগত বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এসআর