পবিত্র ঈদুল আজহা কেবল পশু জবাইয়ের উৎসব নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা এবং হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.)-এর অনুপম ত্যাগের স্মৃতিবহ এক ইবাদত। কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোরবানির মূল লক্ষ্য হলো ইখলাস ও তাকওয়া
বা আল্লাহভীতি অর্জন করা। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করা ব্যক্তিদের ব্যাপারে হাদিসে কঠোর সতর্কতা প্রদান করা হয়েছে।
কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত ও নিসাব:
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন মুসলিমের কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়। নিসাবের পরিমাণ হলো:
সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি স্বর্ণ অথবা,
সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি রুপা অথবা,
সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের নগদ অর্থ বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ।
নিসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার, নগদ টাকা, বার্ষিক খোরাকির অতিরিক্ত জমি এবং অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের মূল্যও যুক্ত হবে। জাকাতের ক্ষেত্রে সম্পদের মালিকানা এক বছর থাকা শর্ত হলেও কোরবানির ক্ষেত্রে তিন দিনের যেকোনো সময় নিসাব পরিমাণ মালিকানা থাকলেই কোরবানি করা বাধ্যতামূলক। মূলত যাদের ওপর জাকাত ফরজ, তাদের ওপর কোরবানিও ওয়াজিব।
এসআর