[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

কুরআনের সিজদার আয়াত পাঠ করলে সিজদা করার কারণ ও তাৎপর্য

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ৬:২৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি

পবিত্র কুরআন মাজিদ মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত হিদায়াতের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। এই মহাগ্রন্থের কিছু নির্দিষ্ট আয়াত পাঠ করলে বা শ্রবণ করলে মুমিনের মনে আল্লাহর প্রতি ভক্তি ও আনুগত্য জাগ্রত হয়, যা ‘সিজদার আয়াত’ হিসেবে পরিচিত। এসব আয়াত পড়ার পর সিজদা করা আল্লাহর প্রতি বিনয় প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সিজদার

 আয়াত বলতে মূলত কুরআনের ওইসব বিশেষ আয়াতকে বোঝায় যেখানে আল্লাহর মহিমা, তাঁর সামনে আত্মসমর্পণ বা অবাধ্যদের পরিণতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অধিকাংশ আলেমের মতে, এই আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলে বা শুনলে সিজদা করা ওয়াজিব। এই সিজদা করার কয়েকটি মৌলিক কারণ রয়েছে।

প্রথমত, এটি আল্লাহর আদেশের প্রতি সরাসরি আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ। অনেক আয়াতে আল্লাহ নিজে সিজদা করার নির্দেশ দিয়েছেন অথবা তাঁর প্রিয় বান্দাদের সিজদায় লুটিয়ে পড়ার প্রশংসা করেছেন। নবীজি (সা.) এসব আয়াত পাঠ করার পর সিজদা করতেন, যা অনুসরণ করা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। দ্বিতীয়ত, সিজদা হলো মানুষের বিনয় ও আত্মসমর্পণের সর্বোচ্চ স্তর। সিজদায় যাওয়ার মাধ্যমে একজন মুমিন নিজের অহংকার বিসর্জন দিয়ে মহান রবের সামনে নিজেকে বিলীন করে দেয়, যা তার ঈমানের গভীরতা প্রমাণ করে।

এছাড়া হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, যখন কোনো মানুষ সিজদার আয়াত পাঠ করে সিজদা দেয়, তখন শয়তান বিমর্ষ হয়ে কাঁদতে থাকে। শয়তান আক্ষেপ করে বলে যে, মানুষকে সিজদার আদেশ দেওয়া হলে সে তা পালন করে জান্নাত নিশ্চিত করল, অথচ সে নিজে অবাধ্য হয়ে জাহান্নামী হয়েছে। মূলত সিজদার আয়াত তিলাওয়াত আমাদের ঈমানকে সতেজ করে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ করে দেয়। তাই এসব আয়াত পড়ার বা শোনার পর আন্তরিকতার সাথে সিজদা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।

এসআর

সম্পর্কিত খবর