বিশ্বকাপ ঘিরে আবারও নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
অভিযোগ উঠেছে, আইন লঙ্ঘন করে অযোগ্য এক গোলরক্ষককে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলিয়েছিল গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো)। বিষয়টি ফিফার আইন বিভাগের অভ্যন্তরীণ তদন্তেও প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিতর্কিত সেই গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি পরবর্তীতে কঙ্গোর মূল একাদশে বিশ্বকাপেও খেলেছেন এবং শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে যাওয়া ম্যাচেও গোলপোস্ট সামলেছেন।
‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়, ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া লিওনেল এমপাসি অতীতে ফ্রান্সের অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলে খেলেছেন। নিয়ম অনুযায়ী কঙ্গোর হয়ে খেলার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ছাড়পত্র সঠিকভাবে সংগ্রহ করা হয়নি বলে ফিফার আইন বিভাগ তাদের তদন্তে দেখতে পায়। এই বিষয়ে নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিল।
অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক পর্যালোচনায় এমপাসিকে নিষিদ্ধ করা, কঙ্গোকে জরিমানা করা কিংবা বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফ থেকে কঙ্গোকে বাদ দিয়ে নাইজেরিয়াকে সুযোগ দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপের পথ খোলা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ফিফা কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি এবং নাইজেরিয়ার আবেদনটি কারিগরি বা প্রাতিষ্ঠানিক ত্রুটির (technical grounds) অজুহাতে খারিজ করে দেয়। ফলে প্লে-অফে কঙ্গো জ্যামাইকাকে পরাজিত করে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
ফিফা এই বিষয়ে তাদের সাফাই দিয়ে জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তাদের স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল এবং এতে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর কোনো ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ ছিল না। তবে এমপাসির বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালেই কঙ্গোর ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ পদে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ভেরন মোসেঙ্গো-ওমবা প্রার্থিতার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন—যা ইনফান্তিনোর নিরপেক্ষতা ও ফিফার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ফলাফলে কঙ্গোর বিদায় ঘটলেও ম্যাচজুড়ে এমপাসির পারফরম্যান্স বেশ সমাদৃত হয়। কিন্তু এখন অযোগ্য খেলোয়াড় খেলানোর সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং তা জেনেও ফিফার কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার দ্বিমুখী নীতি বিশ্ব ফুটবলে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এসআর