ইয়ামালের ঝলক, মেরিনোর শেষ আঘাত—চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে নিখুঁত স্পেন। নেশন্স লিগে টানা তিন জয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের, শেষদিকে লাল কার্ডে চেকদের লড়াই থামিয়ে দিল স্পেন
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে থামানোর স্বপ্ন দেখেছিল চেক প্রজাতন্ত্র। দ্বিতীয়ার্ধে গোল করে ম্যাচে ফিরেও এসেছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা, তারুণ্য আর ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের কাছে হার মানতে হলো চেকদের। নেশন্স লিগে স্পেন তুলে নিয়েছে টানা তৃতীয় জয়।
শনিবার রাতে ওভিয়েদোর কার্লোস তর্তিয়েরে ৩-১ গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়েছে স্পেন। এই জয়ে ‘এ’৩ গ্রুপে তিন ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। পাশাপাশি টানা ৪১ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডও ধরে রেখেছে তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের পায়ে। মাত্র ছয় মিনিটেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। দানি ওলমোর সঙ্গে দারুণ পাস বিনিময়ের পর ডি-বক্সের ডান প্রান্তের কাছ থেকে নিখুঁত বাঁকানো শটে গোল করেন লামিনে ইয়ামাল।
৩৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রদ্রি। আবারও গোলের পেছনে ছিল ওলমোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৬৯ মিনিটে আদাম হ্লোজেকের পাস থেকে গোল করে চেক প্রজাতন্ত্রকে লড়াইয়ে ফেরান জিরি স্লামা।
এরপর সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগও পেয়েছিল চেকরা। ৭৯ মিনিটে রায়ান নাদেরির শট জালে জড়ালেও গোলটি বাতিল হয়ে যায়। আক্রমণের শুরুতে লুকাস চেরভ স্পেনের রবিন লে নরমাঁকে ধরে ফেলায় ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতে গিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন লাদিস্লাভ ক্রেইচি। কয়েক মিনিট পর পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে রবার্তো ফার্নান্দেজকে টেনে ধরায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। ফলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় চেক অধিনায়ককে। ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে ম্যাচে ফেরার শেষ সুযোগটুকুও কঠিন হয়ে যায় তাদের।
শেষ পর্যন্ত ৮৯ মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি নিশ্চিত করেন মিকেল মেরিনো। ভিক্টর মুনিয়োজের শট ঠেকিয়েছিলেন চেক গোলরক্ষক মাতেই কিনস্কি। ফিরতি বল পেয়ে জালে পাঠিয়ে দেন মেরিনো।
পরিসংখ্যানও স্পেনের আধিপত্যের গল্প বলছে। ম্যাচে ৬৯ শতাংশ বলের দখল ছিল তাদের। গোলের উদ্দেশ্যে ১৮টি শট নেয় স্পেন, বিপরীতে চেক প্রজাতন্ত্রের শট ছিল মাত্র পাঁচটি। প্রত্যাশিত গোলের হিসাবেও স্পেন এগিয়ে ছিল।
এদিন স্পেনের একাদশে ছিল বড় পরিবর্তন। আগের ম্যাচের তুলনায় নয়টি পরিবর্তন নিয়েও দলের ছন্দে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। দানি ওলমো ও রদ্রি ছিলেন ২০২২ সালের চেকদের বিপক্ষে শেষ ম্যাচের একাদশ থেকে টিকে থাকা মাত্র দুই খেলোয়াড়।
আর ইয়ামালের বর্তমান ফর্মও স্পেনকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে শেষ নয় ম্যাচে এই তরুণ তারকার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২।
নেশন্স লিগে তিন ম্যাচ, তিন জয়—স্পেনের পথচলা এখন নিখুঁত। আর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সেই দৌড়ে তরুণ ইয়ামালের ঝলক, রদ্রির নিয়ন্ত্রণ আর মেরিনোর শেষ আঘাত যেন নতুন করে জানান দিল—স্পেনকে থামানো এখনো সহজ নয়।
এসআর