[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক ১৪৩৩

মেসি ছাড়াই আর্জেন্টিনার তাণ্ডব, বুরকিনা ফাসোর জালে ৭ গোল

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৮:৪৩ এএম

গোলের বন্যায় উড়ে গেল বুরকিনা ফাসো, আর্জেন্টিনার ৭-০ জয়। প্রথমার্ধেই পাঁচ গোল, মেসিহীন আর্জেন্টিনার দাপটে দিশেহারা ‘স্ট্যালিয়ন্স’; লাউতারো-আলভারেজদের ঝড়ে দুই ম্যাচে ১১ গোল

ম‍্যাচের শুরু থেকে ঝড়, এরপর শুধু গোলের অপেক্ষা। বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে বুরকিনা ফাসোকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করল আর্জেন্টিনা। প্রীতি ম্যাচে আফ্রিকার দলটিকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এই জয়ে শেষ ১৭ ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয় দাঁড়াল ১৬টিতে। এই সময়ের মধ্যে হার মাত্র একটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, ব্যবধানটা কতটা বড় হতে পারে। মাত্র চার মিনিটেই পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্তিনেজের প্রথম শট ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন বুরকিনা ফাসোর গোলরক্ষক আবদুল গুইরা। কিন্তু ফিরতি বলে আর ভুল করেননি লাউতারো—দলকে এগিয়ে দেন ১-০ ব্যবধানে।

চার মিনিট পরই আবার বিপদ। আর্জেন্টিনার আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে বল নিজেদের জালেই পাঠিয়ে দেন মুমুনি দিয়ালো। আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান ২-০।

এরপরও থামেনি আর্জেন্টিনার আক্রমণ। ১২ মিনিটে লাউতারোর পাস থেকে গোল করেন জিয়ানলুকা প্রিস্তিয়ানি। মাত্র ১২ মিনিটেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেয় আলবিসেলেস্তেরা।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে আরও দুই গোল। ৩৫ মিনিটে নিকো পাজ নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে করেন ৪-০। এক মিনিট পরই প্রিস্তিয়ানির দারুণ কাজের পর গোল করেন হুলিয়ান আলভারেজ। ৩৬ মিনিটে স্কোরলাইন হয়ে যায় ৫-০।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ম্যাচ কার্যত শেষ। বুরকিনা ফাসো এরপর নিজেদের রক্ষণ সামলে রাখার চেষ্টা করলেও আর্জেন্টিনার বল দখল ছিল প্রায় ৭৫ শতাংশের বেশি।

বিরতির পর দুই দলই বেশ কিছু পরিবর্তন আনে। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বিশ্রাম দেন কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে। কিন্তু তাতেও আক্রমণের ধার কমেনি।

৫৭ মিনিটে দারুণ দলীয় আক্রমণ থেকে ষষ্ঠ গোল পায় আর্জেন্টিনা। একের পর এক পাসের পর লাউতারো বল বাড়িয়ে দেন ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনোকে। জায়গা পেয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন তিনি।

শেষ দিকে ম্যাচের গতি কিছুটা কমে আসে। বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে সহজেই সময় পার করছিল আর্জেন্টিনা। তবু গোলের ক্ষুধা শেষ হয়নি।

যোগ করা সময়ে কাছ থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান ৭-০ করেন জুলিয়ানো সিমেওনে।

শেষ দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার গোল এখন ১১টি। আর বুরকিনা ফাসোর জন্য রাতটা ছিল আরও হতাশার—শেষ সাত পরাজয়ের ছয়টিতেই তারা কোনো গোল করতে পারেনি।

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য তাই এটি শুধু বড় জয় নয়, আক্রমণভাগের দুর্দান্ত ছন্দেরও আরেকটি বার্তা। মেসি না থাকলেও আর্জেন্টিনার গোল করার লোকের অভাব নেই—লাউতারো, আলভারেজ, পাজ, মাস্তান্তুয়োনো থেকে সিমেওনে, এক ম্যাচেই তার প্রমাণ মিলল।

 

এসআর

সম্পর্কিত খবর