টেকনিক্যাল ডিরেক্টর, আবার বয়সভিত্তিক দলের কোচ—টিটুর আসল দায়িত্ব কোনটি? দায়িত্বের সীমারেখা নিয়ে প্রশ্ন, একের পর এক দলের ডাগআউটে টিটু; কোচিং কোর্স নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন?
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) ‘টেকনিক্যাল ডিরেক্টর’ পদটি দেশের ফুটবল উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। জাতীয় ও বয়সভিত্তিক দলগুলোর পরিকল্পনা, কোচিং কাঠামো, কোচদের উন্নয়ন, খেলোয়াড় তৈরির পাইপলাইন, এলিট একাডেমি এবং দীর্ঘমেয়াদি ফুটবল উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে এই পদ সরাসরি সম্পৃক্ত। ২০২৪ সালে সাইফুল বারী টিটুকে এক বছরের জন্য এই পদে নিয়োগ দেওয়ার সময় তিনিও বলেছিলেন, জাতীয় ও বয়সভিত্তিক দল নিয়ে পরিকল্পনা, কোচদের প্রশিক্ষণ, ক্লাবগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক, এলিট একাডেমি এবং খেলোয়াড় তৈরির পাইপলাইন দেখাই হবে তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—যিনি পুরো বাফুফের টেকনিক্যাল কাঠামো তদারক করবেন, তিনিই যদি বারবার বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন, তাহলে তাঁর মূল দায়িত্বের তদারকি করবেন কে?
কোচ হিসেবে টিটুর জন্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও তিনি জাতীয় নারী দল, বয়সভিত্তিক দল এবং অন্যান্য দলের কোচিংয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ সালে এশিয়ান গেমসের জন্য বাংলাদেশ নারী জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তখনও বাফুফে জানিয়েছিল, কোচ সংকটের কারণে স্বল্পমেয়াদি দায়িত্ব হিসেবে তাঁকে নেওয়া হচ্ছে।
টেকনিক্যাল ডিরেক্টর নাকি ‘সব দলের’ কোচ? টিটুর বর্তমান দায়িত্বের সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখানেই। একজন টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের মূল কাজ সাধারণত একটি নির্দিষ্ট দলের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে ম্যাচ পরিচালনা করা নয়; বরং পুরো ফুটবল কাঠামোর উন্নয়ন পরিকল্পনা করা, কোচদের কর্মপদ্ধতি মূল্যায়ন, বয়সভিত্তিক ফুটবলের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি খেলোয়াড় উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলা।
বাফুফেতে টিটুকে নিয়োগের সময় তাঁর নিজের বক্তব্যেও এসব দায়িত্বের কথা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছিল। তিনি বলেছিলেন, জাতীয় ও বয়সভিত্তিক দলগুলোর পরিকল্পনা, কোচদের ট্রেনিং, এলিট একাডেমি এবং খেলোয়াড় তৈরির পাইপলাইন ঠিক রাখার দায়িত্ব তাঁর কাজের অংশ।
কিন্তু বাস্তবে যখন টেকনিক্যাল ডিরেক্টরকেই কোনো একটি বয়সভিত্তিক দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে—তিনি কি তখন নিজের অধীনস্থ কোচদের তদারক করছেন, নাকি নিজেই একজন কোচ হিসেবে সেই কাঠামোর অংশ হয়ে যাচ্ছেন?
২০২৫ সালেও টিটুর চুক্তি বাড়ানোর খবরের সময় সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছিল, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে ১৫ মাসে তিনি কয়েকটি কোচিং কোর্স, একটি বয়সভিত্তিক দলের কোচিং এবং এএফসি সভা-সেমিনারে অংশ নিয়েছিলেন। একই প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়, দেশের ফুটবলের নীতি ও কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে তাঁর কার্যক্রম কতটা প্রত্যাশিত পর্যায়ে যাচ্ছে।
কোচদের তদারক করবেন যিনি, তিনিই যখন কোচ। ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে নারী অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কোচিং স্টাফের সঙ্গে টিটুর দূরত্ব ও মতবিরোধের কথা উঠে আসে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুশীলনের সময় কোচিং স্টাফের ভুল নিয়ে টিটুর হস্তক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। একই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, টিটুর মূল দায়িত্ব বাফুফের বেতনভুক্ত কোচদের দেখভাল করা।
অর্থাৎ যে ব্যক্তির ওপর কোচদের কর্মপরিধি ও কাজের মান পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব, তাঁর সঙ্গে যদি কোচিং স্টাফের সম্পর্ক নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়, তাহলে বিষয়টি বাফুফের জন্যও পর্যালোচনার দাবি রাখে।
এখানে ব্যক্তিগত বিরোধের চেয়ে বড় বিষয় হলো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো। একজন টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের ক্ষমতা, দায়িত্ব, জবাবদিহি এবং কোচিংয়ের সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার সীমা কোথায়—বাফুফেকে সেটিই পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
টিটুর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলো কোচিং শিক্ষা। বাফুফের বিভিন্ন কোচিং কোর্সে তাঁকে ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে দেখা গেছে। ২০২৫ সালের এএফসি বি-কোচেস লাইসেন্স কোর্সে তিনি ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই কোর্সের ফি ছিল ৫০ হাজার টাকা; নারী ফুটবলারদের উৎসাহিত করতে তাঁদের কাছ থেকে অর্ধেক ফি নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এরও আগে বাফুফের এএফসি বি-ডিপ্লোমা কোর্সের উদ্বোধনী কার্যক্রমেও টিটুর উপস্থিতি এবং অংশগ্রহণের তথ্য ফেডারেশনের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।
এখানে অবশ্যই একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—কোচিং কোর্স পরিচালনা করা বা কোর্সের ফি নেওয়া নিজেই অনিয়মের প্রমাণ নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, কোর্সে ভর্তি, মূল্যায়ন, পরীক্ষার ফল, লাইসেন্স প্রদান এবং ইনস্ট্রাক্টরদের ভূমিকা কতটা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
‘টিটুর লোক’—এমন ধারণা তৈরি হলে দায় কার? ফুটবলে কোচিং লাইসেন্স একটি পেশাগত যোগ্যতা। ফলে কোনো কোচকে লাইসেন্স দেওয়া বা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ, পরিচিতি কিংবা প্রভাবের সুযোগ থাকার অভিযোগ উঠলে সেটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।
টিটুর বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে কোচিং সনদ দেওয়া বা স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সনদ পাইয়ে দেওয়ার নির্দিষ্ট অভিযোগের প্রমাণ নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া যায়নি। ফলে এমন অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে প্রচার করা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না।
তবে স্বচ্ছতার প্রশ্নটি এড়ানো যায় না। বাফুফে চাইলে প্রকাশ করতে পারে— প্রতিটি কোচিং কোর্সে মোট আবেদনকারীর সংখ্যা; নির্বাচনের নির্ধারিত মানদণ্ড; কোর্সের ফি; পরীক্ষার পদ্ধতি; মূল্যায়ন কমিটির সদস্য;উত্তীর্ণ ও অনুত্তীর্ণ কোচের সংখ্যা; আপিলের সুযোগ; লাইসেন্স প্রদানের চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ; ইনস্ট্রাক্টর ও পরীক্ষকের দায়িত্বের পৃথকীকরণ।
এগুলো প্রকাশ্যে থাকলে ‘কে কার লোক’, ‘কার সুপারিশে কে লাইসেন্স পেল’—এ ধরনের প্রশ্নের অবকাশ অনেকটাই কমে যাবে।
একই ব্যক্তির হাতে এত দায়িত্ব—জবাবদিহি কোথায়? টিটুকে ২০২৪ সালে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর করার সময় বাফুফে জানিয়েছিল, তাঁর দায়িত্ব হবে ফেডারেশনের টেকনিক্যাল কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক দেখভাল করা। নিয়োগের সময় তাঁর স্থানীয় কোচ হিসেবে দেশের ফুটবল সম্পর্কে অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় পর প্রশ্নটি এখন আরও নির্দিষ্ট— টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে তাঁর অর্জন কী?
কতজন নতুন কোচ তৈরি হয়েছে? বয়সভিত্তিক ফুটবলের জন্য কী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে?কোচদের মূল্যায়নের কাঠামো কতটা উন্নত হয়েছে? এলিট একাডেমি থেকে কতজন খেলোয়াড় জাতীয় দলের পাইপলাইনে এসেছে? দেশীয় কোচদের উন্নয়নে কী স্থায়ী কাঠামো তৈরি হয়েছে?
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—টেকনিক্যাল ডিরেক্টর নিজেই যদি একের পর এক দলের কোচের দায়িত্ব নেন, তাহলে তাঁর মূল প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক দায়িত্বগুলো কতটা কার্যকরভাবে সম্পন্ন হচ্ছে?
এসব প্রশ্নের উত্তর ব্যক্তিগত আক্রমণে নয়; প্রয়োজন তথ্য, নথি এবং বাফুফের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা।
টিটুকে ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রে আসলে ব্যক্তি নয়, কাঠামো। সাইফুল বারী টিটু দেশের অভিজ্ঞ কোচদের একজন এবং এএফসি পর্যায়ের কোচিং যোগ্যতাধারী। বাফুফের বিভিন্ন কোচিং কোর্সেও তাঁর কাজের নথিভুক্ত নজির রয়েছে। কিন্তু একজন ব্যক্তির যোগ্যতা থাকা আর একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব কাঠামো সঠিকভাবে পরিচালিত হওয়া—দুটি ভিন্ন বিষয়।
টেকনিক্যাল ডিরেক্টর যদি কখনো জাতীয় দলের, কখনো পুরুষ বয়সভিত্তিক দলের, আবার কখনো নারী বয়সভিত্তিক দলের প্রধান কোচ হন, তাহলে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীর মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে—বাফুফেতে টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের পদটি কি আসলে একটি পূর্ণকালীন নীতি ও উন্নয়নমূলক দায়িত্ব, নাকি প্রয়োজন অনুযায়ী ডাগআউটে নামার একটি অতিরিক্ত পদ? এই প্রশ্নের উত্তর টিটুর একার নয়। উত্তর দেওয়ার দায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনেরও।
কারণ একজন টেকনিক্যাল ডিরেক্টরকে দিয়ে একাধিক দায়িত্ব করানোর সিদ্ধান্ত যদি নিয়মিত হয়ে ওঠে, তাহলে ব্যক্তি নয়—প্রথমে প্রশ্ন উঠবে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব বণ্টন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কাঠামো নিয়ে। আর কোচিং লাইসেন্স নিয়ে যেসব অভিযোগ বা গুঞ্জন রয়েছে, সেগুলোরও একমাত্র গ্রহণযোগ্য জবাব হতে পারে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া, প্রকাশ্য মানদণ্ড এবং যাচাইযোগ্য নথি।
বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পছন্দ-অপছন্দের ওপর নয়, একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক টেকনিক্যাল কাঠামোর ওপর দাঁড়ানোই প্রত্যাশিত।
পুরুষ জাতীয় দলের কোচ নিয়োগেও টিটুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। টিটুকে ঘিরে প্রশ্ন শুধু বয়সভিত্তিক দলের কোচিংয়ে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশ পুরুষ জাতীয় দলের প্রধান কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে জাভিয়ের কাবরেরার চার বছরের অধ্যায় শেষ হওয়ার পর নতুন প্রধান কোচ নিয়োগের জন্য বাফুফে প্রায় ৩০০টি আবেদন পায়। প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে বাছাইয়ের জন্য যে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়, সেখানে ছিলেন বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটু। কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান হিলটন; অন্য সদস্য ছিলেন সাবেক ফুটবলার সৈয়দ হাসান কানন ও ইকবাল হোসেন। বাছাই করা প্রার্থীদের পরবর্তী পর্যায়ে জাতীয় দল কমিটির সামনে সাক্ষাৎকার দেওয়ার কথা ছিল।
এই প্রক্রিয়ায় ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যানের নামও আলোচনায় আসে। মে মাসের শুরুতে কোলম্যানের সঙ্গে বাফুফের আলোচনায় সভাপতি তাবিথ আউয়ালের পাশাপাশি টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটুর অংশগ্রহণের খবর প্রকাশিত হয়। অর্থাৎ কোলম্যানের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন কোচকে নিয়ে আলোচনার পর্যায়েও টিটু সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।
পরবর্তী সময়ে কোলম্যানের সঙ্গে আলোচনা আর এগোয়নি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এর কারণ হিসেবে তাঁর পারিশ্রমিক এবং পছন্দের কোচিং স্টাফ আনার অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি উঠে আসে। এরপর বাফুফে জার্মান-আমেরিকান কোচ থমাস ডুলিকে নিয়োগ দেয়।
এখানেই নতুন প্রশ্ন—যে প্রক্রিয়ায় কোলম্যানের মতো অভিজ্ঞ কোচের সঙ্গে আলোচনা হলো, সেই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে থাকা টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের কারিগরি মূল্যায়ন কী ছিল? শেষ পর্যন্ত কেন থমাস ডুলি নির্বাচিত হলেন?
টিটু ডুলির নিয়োগ এককভাবে করেছেন—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে নেই। বরং প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কোচ নির্বাচন ছিল একাধিক কমিটি ও বাফুফে কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রক্রিয়া। তবে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে প্রার্থী বাছাই এবং পরবর্তী কারিগরি মূল্যায়নে টিটুর ভূমিকা ছিল—এটি নথিভুক্ত।
তাই প্রশ্নটি হওয়া উচিত ব্যক্তিগত পছন্দ বা অপছন্দের নয়; বরং বাফুফের কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কারিগরি মূল্যায়নের মানদণ্ড কী ছিল—সেটি নিয়ে।
কোলম্যানের অভিজ্ঞতা, ডুলির কোচিং ক্যারিয়ার, দুজনের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা, পারিশ্রমিক, সহকারী কোচ ও সাপোর্ট স্টাফের কাঠামো এবং বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য তাঁদের পরিকল্পনা—এসবের তুলনামূলক মূল্যায়ন কি লিখিতভাবে করা হয়েছিল? হয়ে থাকলে সেই মূল্যায়ন কি বাফুফে প্রকাশ করবে?
কারণ টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের দায়িত্ব যদি হয় বাফুফের সামগ্রিক ফুটবল কাঠামোর কারিগরি নেতৃত্ব দেওয়া, তাহলে জাতীয় দলের প্রধান কোচ নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর সুপারিশ বা মূল্যায়নের স্বচ্ছতাও গুরুত্বপূর্ণ।
থমাস ডুলি নিয়োগের পরও টিটুর সঙ্গে তাঁর দায়িত্বগত সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে টিটু নিজেই বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের কোচের দায়িত্ব নিচ্ছেন। ফলে একই ব্যক্তিকে একদিকে কোচ নিয়োগের কারিগরি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে, অন্যদিকে বয়সভিত্তিক দলের ডাগআউটে দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছে।
এসআর