[email protected] বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
২০ কার্তিক ১৪৩৩

জুমার দিনের ফজিলত, আমল ও প্রথম আজান সংক্রান্ত বিধান

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১২:১৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হলো পবিত্র শুক্রবার বা জুমার দিন। এই দিন জোহরের নামাজের পরিবর্তে দুই

 রাকাত জুমার নামাজ আদায় করতে হয়। মুসলমানরা আল্লাহর ঘর মসজিদে সমবেত হয়ে খুতবা শোনেন এবং এরপর দুই রাকাত জুমার ফরজ আদায় করেন।

​জুমার দিনের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী এই দিনটি। বর্তমানের বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রে সপ্তাহের এই দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। কোরআন ও হাদিসে জুমার দিনের আমল এবং ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

​জুমার দিনের বিশেষ আমল ও ফজিলত

​দোয়া কবুলের সময়: এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘জুমার দিন এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায়, তা-ই তাকে দেওয়া হয়। আর এ সময়টি হলো জুমার দিন আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৯৩৫)

​কবরের আজাব থেকে মুক্তি: আরেকটি হাদিসে এসেছে, ‘জুমার রাতে বা দিনে যে ব্যক্তি মারা যায়, আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের ফেতনা থেকে রক্ষা করবেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১০৭৮)

​তাড়াতাড়ি মসজিদে যাওয়ার সওয়াব: রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন জুমার দিন আসে ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে প্রথম থেকে পর্যায়ক্রমে আগন্তুকদের নাম লিখতে থাকে। যে সবার আগে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো যে একটি উট সদকা করে। তারপর যে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো যে একটি গাভী সদকা করে। তারপর আগমনকারী মুরগি সদকাকারীর মতো। তারপর আগমনকারী একটি ডিম সদকাকারীর মতো। এরপর যখন ইমাম খুতবা দিতে বের হন, তখন ফেরেশতারা তাদের দফতর বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনতে থাকেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৮৮২)

​জুমার দুই আজানের ইতিহাস ও বিধান

​জুমার নামাজের জন্য দুটি আজান দেওয়া হয়। প্রথমটি জুমার ওয়াক্ত হওয়ার পর এবং দ্বিতীয়টি জুমার নামাজের খুতবার ঠিক আগে। ইসলামের সূচনালগ্নে জুমার আজান একটিই ছিল, যা শুধু খুতবার আগে দেওয়া হতো। পরবর্তীতে মানুষের অবহেলা বেড়ে যাওয়ায় ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান (রা.) প্রথম আজানটি চালু করেন।

​প্রথম আজানের পর করণীয় ও নিষেধাজ্ঞা

​বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, প্রথম আজানের পর দুনিয়াবী কোনো কাজে আত্মনিয়োগ করা যাবে না। প্রথম আজানের পরই মসজিদ অভিমুখে যাত্রা করা ওয়াজিব। এই সময়ে জুমার নামাজের প্রস্তুতিমূলক কাজ (যেমন—গোসল, অজু, কাপড় পরিধান করা ইত্যাদি) ছাড়া অন্য কোনো কাজ করা নাজায়েজ ও হারাম।

​পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ, জুমার দিন যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর। এটিই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা উপলব্ধি কর।’ (সুরা জুমআ, আয়াত: ৯)

​এই আয়াতে সালাতের জন্য আহ্বান বলতে মৌলিকভাবে দ্বিতীয় আজান বা খুতবার আজান উদ্দেশ্য হলেও শব্দের ব্যাপকতার মাঝে জুমার প্রথম আজানও অন্তর্ভুক্ত। তাই তাফসীরবিদ ও ফিকহবিদগণের নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী, প্রথম আজানের পরও জুমার প্রস্তুতিমূলক কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া এই আয়াতের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত। আর জুমার দ্বিতীয় আজানের পর বেচাকেনা এবং পার্থিব যেকোনো কাজ সম্পাদন করা নাজায়েজ ও বড় গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।

এসআর

সম্পর্কিত খবর