পবিত্র কোরআনের ৯৫তম সুরা ‘আত-তিন’। মোট আট আয়াতের এই সংক্ষিপ্ত সুরায় মহান আল্লাহ
তাআলা ডুমুর, জলপাই, সিনাই প্রান্তরের তুর পর্বত এবং নিরাপদ নগরী মক্কার শপথ করে মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্ব, নৈতিক পতন এবং পরকালের জবাবদিহি সম্পর্কে অমূল্য শিক্ষা প্রদান করেছেন।
সুরাটির চতুর্থ আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, তিনি মানুষকে সবচেয়ে সুন্দর ও উৎকৃষ্ট অবয়বে সৃষ্টি করেছেন। মানুষকে দেওয়া হয়েছে বিচারবুদ্ধি, বিবেক ও সৎ-অসতের পার্থক্য বোঝার অনুপম ক্ষমতা। মানুষের এই উচ্চ মর্যাদা কেবল বাহ্যিক গঠন বা সৌন্দর্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সত্যকে গ্রহণ করা, ন্যায়ের পথে চলা এবং সৎকাজ করার সক্ষমতাও এর অংশ। তাই অহংকার, জুলুম ও অনৈতিকতা পরিহার করে নিজ মর্যাদা রক্ষা করা মানুষের দায়িত্ব।
পরবর্তী আয়াতসমূহে (আয়াত: ৫-৬) বলা হয়েছে, বিবেক ও সামর্থ্য অপব্যবহার করে মানুষ যখন পাপের পথে পরিচালিত হয়, তখন সে নিজেকে নিকৃষ্টতম পর্যায়ে নামিয়ে আনে। তবে যারা সত্যে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকাজে আত্মনিয়োগ করে, তাদের জন্য রয়েছে অশেষ ও নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার। বংশমর্যাদা, অর্থবিত্ত বা বাহ্যিক পরিচিতি মানুষকে প্রকৃত সম্মানিত করে না; বরং ঈমান ও সৎকর্মের সমন্বয়েই অর্জিত হয় প্রকৃত সফলতা।
ইসলামে বিশ্বাসের প্রকাশ ঘটে সৎ কাজ, আমানতদারি, মানবসেবা, অধিকার রক্ষা এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে। পারিবারিক, সামাজিক ও পেশাগত—জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখাই ঈমানের আসল দাবি। সুরা আত-তিন আমাদের শেখায় যে, মানুষের প্রতিটি কর্মের সঙ্গেই তার নৈতিকতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
সুরার শেষ আয়াতে (আয়াত: ৮) আল্লাহ তাআলা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক। এই আয়াত প্রতিটি মানুষকে পরকালের জবাবদিহির কথা মনে করিয়ে দেয়। পৃথিবীতে অন্যায় করে সাময়িক ছাড় পাওয়া গেলেও আল্লাহর ন্যায়বিচার থেকে পালানোর কোনো সুযোগ নেই। এই পরকালীন সচেতনতাই মানুষকে পৃথিবীতে ন্যায়ের পথে চলতে এবং পাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করে।
এসআর