টাকার প্রয়োজনে জমি বন্ধক রেখে ঋণ গ্রহণ গ্রামবাংলার একটি পরিচিত চিত্র। তবে ঋণের
বিনিময়ে বন্ধকী জমি চাষ করে উৎপাদিত ফসল ভোগ করা ইসলামী শরিয়তে বৈধ নয় বলে জানিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদ ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, ঋণের নিরাপত্তা বা নিশ্চয়তা হিসেবে কোনো সম্পদ (যেমন: জমি) বন্ধক রাখা সম্পূর্ণ বৈধ। পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারার ২৮৩ নম্বর আয়াতে বন্ধকের কথা উল্লেখ রয়েছে এবং হাদিসেও মহানবী (সা.)-এর বর্ম বন্ধক রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে বন্ধকী সম্পদ থেকে ঋণদাতা অতিরিক্ত কোনো সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না।
ঋণ দেওয়ার বিনিময়ে বন্ধকী জমি নিজের দখলে রেখে চাষ করা কিংবা উৎপাদিত ফসল ভোগ করা শরিয়তসম্মত নয়, কারণ ঋণদাতা কেবল তার মূল টাকা ফেরত পাওয়ার অধিকারী। ঋণের কারণে অতিরিক্ত কোনো সুবিধা গ্রহণ করা সুদের পর্যায়ে পড়ে। জমির মালিক নিজ ইচ্ছায় সম্মতি দিলেও ঋণের শর্ত হিসেবে জমি ভোগের সুযোগ থাকলে তা বৈধ হবে না।
টাকা ধার নেওয়ার পর জমি ব্যবহারের প্রয়োজন হলে ঋণের চুক্তির বাইরে আলাদাভাবে ইজারা বা বর্গাচাষের চুক্তি করতে হবে। সেক্ষেত্রে ন্যায্য ভাড়া বা ফসলের নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করা যেতে পারে, তবে তা কোনোভাবেই মূল ঋণের শর্ত হতে পারবে না।
ইসলামী শরিয়তের মূলনীতি হলো—ঋণ হবে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যম, এর বিনিময়ে অতিরিক্ত কোনো আর্থিক সুবিধা বা লাভ গ্রহণ করা যাবে না।
এসআর