দেশের সড়কগুলোতে ধারাবাহিক দুর্ঘটনায় বাড়ছে প্রাণহানি।
রোববার (৮ নভেম্বর) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন সংবাদমাধ্যম, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী দুজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ১৯৩টি। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৮৬ জন। একইভাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পিতা ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ১৫৯টি। এতে নিহত হয়েছেন ৩১৮ জন।
অটোরিকশা দুর্ঘটনায়ও একই পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রাণহানির চিত্র ভয়াবহ। এ ধরনের ৫২৫টি দুর্ঘটনায় মোট ১ হাজার ৭২৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে একই পরিবারের দুজন থেকে সাতজন পর্যন্ত নিহত হওয়ার ঘটনা রয়েছে।
মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ১৮৬টি ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭০৮ জনের। এসব দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই থেকে ছয়জনের পাশাপাশি এক ঘটনায় ১১ জন এবং অন্য ঘটনায় ১৪ জনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
অন্যদিকে, প্রাইভেটকারের ১০৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৫২ জন। অ্যাম্বুলেন্সের ৪৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬২ জন। বাসের ৩২টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৮৫ জন। এ ছাড়া পিকআপ ভ্যান উল্টে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর একটি ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে যাতায়াত, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল, যানবাহনের ফিটনেসের ঘাটতি এবং চালকদের অদক্ষতাকে এ ধরনের প্রাণহানির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
এ ছাড়া চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া গাড়ি চালানো, মোটরসাইকেলে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, অতিরিক্ত গতিতে চলাচল এবং ট্রাফিক আইন না মানার বিষয়গুলোও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার এবং সড়ক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
পাশাপাশি মহাসড়কে ডিভাইডার ও সার্ভিস রোড নির্মাণ, গ্রামীণ সড়কের সঙ্গে মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ এবং যানবাহন চলাচলে কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মনে করে, সড়ক ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো গেলে এ ধরনের মর্মান্তিক প্রাণহানি কমিয়ে আনা সম্ভব।
এফ/ডি