[email protected] বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
২০ কার্তিক ১৪৩৩

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় তিন স্তরের ব্যবস্থা, প্রস্তুত বিশেষায়িত পুলিশ দল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬ ৬:২৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে দেশজুড়ে তিন ধাপে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ পুলিশ।

পূজার আগে, উৎসব চলাকালে এবং প্রতিমা বিসর্জনসহ পূজা-পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পুলিশের পাশাপাশি বিশেষায়িত বিভিন্ন ইউনিটকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হবে।

 

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাবিষয়ক সভায় এসব তথ্য জানান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বিপিএম। সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি।

 

আইজিপি জানান, দুর্গাপূজাকে ঘিরে পুলিশের নিরাপত্তা কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

 

গুজব ছড়ালে দ্রুত ব্যবস্থা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য, উসকানিমূলক পোস্ট, অপপ্রচার কিংবা বিভ্রান্তিকর ছবি ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

একই সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

বিশেষ ইউনিট থাকবে প্রস্তুত

পূজার নিরাপত্তায় সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন ইউনিটে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ সেল চালু রাখার কথা জানানো হয়েছে।

 

পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা বিসর্জনস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা এবং বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেনারেটর প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে সন্তোষ

সভায় পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকার বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন। মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার এবং নৌ পুলিশের কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

 

সভায় উপস্থিত নেতারা দুর্গাপূজা উপলক্ষে নেওয়া নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সরকার ও পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য, এ বছর দেশে প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর