[email protected] শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক ১৪৩৩

কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: হানিফসহ চারজনের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে প্রসিকিউশন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৫:০৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

অতিরিক্ত তথ্যপ্রমাণ দাখিলের পর মামলাটিতে পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন।

 

সোমবার (৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বেঞ্চের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

 

রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। শুনানি শেষে তিনি জানান, মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম ও যুক্তিতর্ক আগে শেষ হয়েছিল। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কিছু তথ্যপ্রমাণ আদালতে দাখিল করা হয়। এর ভিত্তিতেই পুনরায় যুক্তিতর্কের সুযোগ দেওয়া হয়। যুক্তিতর্ক শেষে চার আসামির প্রত্যেকের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করা হয়েছে।

 

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাইয়ের আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে হানিফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একজন বেসামরিক রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি টেলিফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের কার্যক্রমে সহায়তা করেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি।

 

প্রসিকিউটর তামিম বলেন, একই ধরনের অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিমকে ট্রাইব্যুনাল সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন। সে কারণে হানিফের ক্ষেত্রেও একই ধরনের দণ্ড প্রত্যাশা করছে প্রসিকিউশন।

 

রাষ্ট্রপক্ষ আরও দাবি করেছে, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হানিফ দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি ও সহায়তা দিয়েছেন। ওবায়দুল কাদেরের কয়েকটি বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এসব কর্মকাণ্ডে সমর্থন জানান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও হানিফের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। এসব যোগাযোগের তথ্যপ্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান প্রসিকিউটর।

 

মামলার অপর তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চার আসামিই বর্তমানে পলাতক।

 

এর আগে গত ১০ জুন উভয় পক্ষের যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। তার আগে ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে মামলায় ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছিল। পরে অতিরিক্ত তথ্যপ্রমাণ দাখিল হওয়ায় মামলাটিতে পুনরায় যুক্তিতর্কের সুযোগ দেওয়া হয়।

 

২০২৫ সালের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে একই বছরের ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশন চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। পরদিন ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর