[email protected] বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত, যেসব অভিযোগে ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮:৪১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং চাকরি থেকে পলাতক থাকার অভিযোগে সাবেক এক পুলিশ সুপারসহ পুলিশের ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলার পর তাঁদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাস এবং সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল।

 

আসাদুজ্জামান

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা জেলার সাবেক এসপি মো. আসাদুজ্জামান ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদা, রাজশাহীতে যোগ দেন। ওই বছরের ১৭ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর ছুটি নিয়ে তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করেন। তবে ছুটি শেষ হওয়ার পরও অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে ফেরেননি। পরে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং পলায়নের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে বরখাস্তের আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

 

পলাশ রঞ্জন দে

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট থেকে অনুমোদন ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। তদন্তে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাঁকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি জবাব দেননি। ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট থেকে তাঁর বরখাস্ত কার্যকর হয়েছে।

 

ছানোয়ার হোসেন

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগে তিনি পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিটে পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিভাগীয় তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

জায়েদুল আলম

অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। ওই বছরের ১২ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য ছুটি নিয়ে তিনি থাইল্যান্ডে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কর্মস্থল ছাড়েন। ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি কাজে যোগ দেননি। পরে বিভাগীয় মামলা করে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে তাঁর বরখাস্ত কার্যকর করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

রাজীব দাস

ডিএমপির সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাজীব দাস ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। ছুটি শেষ হওয়ার পরও দায়িত্বে যোগ না দেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর থেকে তাঁর বরখাস্ত কার্যকর হয়েছে।

 

আরিফুর রহমান মণ্ডল

সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর