বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে দেশের সব জেলা পরিষদকে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ শাখা থেকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে জরুরি চিঠি জারি করা হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের গত ১ সেপ্টেম্বরের নির্দেশনার ভিত্তিতে দেওয়া চিঠিটি দেশের সব জেলা পরিষদের প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দাপ্তরিক প্রধান ভবন এবং জেলা পরিষদের মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থাপনায় রুফটপ সোলার সিস্টেম বসাতে হবে। এর মধ্যে জেলা পরিষদ কার্যালয়, অডিটোরিয়াম, ডাকবাংলো, হাট-বাজারসহ অন্যান্য ভবনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিটি স্থাপনায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় কমপক্ষে দুই ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) কিংবা জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল ব্যবহার করা যাবে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে কোনো স্থাপনার নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে। নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুযায়ী গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের জন্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে অর্থ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর ফলে জেলা পরিষদগুলোর রাজস্ব আয়েরও সুযোগ তৈরি হবে।
আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ জেলা পরিষদগুলোকে নিজস্ব রাজস্ব ও এডিপির অর্থ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুতের কার্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে এর ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়—এমন জেলা পরিষদগুলোকে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এসব কার্যক্রম জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি বাস্তবায়ন গাইডলাইন অনুসরণ করে সম্পন্ন করতে হবে।
এ ছাড়া সৌর প্যানেল স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২০ বছরের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত চুক্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ চুক্তি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সম্পাদন করতে হবে।
সরকার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ শেষ করতে সব জেলা পরিষদকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এসআর