[email protected] শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩

কাঠগড়ায় নীরব গাজী নজরুল, কাঁদছিলেন প্রথম স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:০৬ এএম

সংগৃহীত ছবি

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম (৭৫) ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে (৬৫) কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শুনানি শেষে গাজী নজরুলকে চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দুপুর ২টা ২২ মিনিটের দিকে একটি সাদা ব্যক্তিগত গাড়িতে করে গাজী নজরুল ও তার স্ত্রীকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়।

পরে বিকেল ৩টা ৬ মিনিটে তাদের পঞ্চম তলায় ৮ নম্বর আদালতের এজলাসে নেওয়া হয়। তাদের হাতে হাতকড়া না থাকলেও নিরাপত্তার কারণে দুজনকেই বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরানো ছিল।

এজলাসে নেওয়ার পর তাদের হেলমেট ও জ্যাকেট খুলে দেওয়া হয়। শুনানি শুরু হলে আসামিদের নাম ঘোষণার সময় গাজী নজরুল মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

তার পেছনে থাকা স্ত্রী মাকছুদাকে এ সময় কাঁদতে দেখা যায়। শুনানির বেশিরভাগ সময় সংসদ সদস্যকে নীরব ও মাথা নিচু অবস্থায় থাকতে দেখা যায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই শামসুজ্জোহা সরকার আদালতে দুজনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তিনি বলেন, মরিয়ম খাতুন আত্মহত্যার সময় আসামিরা একই বাসায় ছিলেন।

তার মৃত্যুর পেছনে তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো ভূমিকা কিংবা প্ররোচনা ছিল কি না, তা তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন আবেদন করেন।

তিনি আদালতকে বলেন, গাজী নজরুল চারবারের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি এবং তার স্ত্রী দুজনই বয়স্ক। ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তদন্তে তারা সহযোগিতা করবেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তার দাবি, বিয়ের পর মরিয়মকে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।

এ বিষয়ে মরিয়মের রেখে যাওয়া সুইসাইড নোটে তথ্য রয়েছে বলেও তিনি আদালতকে জানান। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পেছনের বিষয়গুলো জানতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি বলে দাবি করেন তিনি।

শুনানির একপর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মামলার বাইরে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুললে বিচারক তাকে থামিয়ে দেন এবং মামলার মূল বিষয়েই বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেন। ওই সময় গাজী নজরুল কিছুটা মাথা তুলে আইনজীবীর দিকে তাকান। পরে আবার মাথা নিচু করে স্ত্রীকে কান্না না করার ইঙ্গিত দেন।

দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালত থেকে বের করার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গাজী নজরুল তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করেন। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন না এবং মরিয়ম কেন আত্মহত্যা করেছেন, সেটিও তার জানা নেই।

এর আগে রোববার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বাসায় গাজী নজরুল তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহকে ফোন করে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন নজরুল।

পরে মরিয়মের বাবা ও তার শ্যালিকা ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে একটি কক্ষ ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ দেখতে পান তারা। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

মরিয়মের পরিবারের অভিযোগ, গত জুনে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ের পর থেকেই ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। এ অভিযোগে রোববার রাতে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন।

মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ছাড়াও নজরুলের সাবেক গাড়িচালক এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। ওবায়দুর রহমান বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

গাজী নজরুল ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এর আগে গত জুলাইয়ে এক তরুণীর সঙ্গে তার একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা তৈরি হয়। তখন নজরুল দাবি করেছিলেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম।

 

এসআর

সম্পর্কিত খবর