[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক ১৪৩৩

ডিমের দামই দেখাচ্ছে সরকারের সিদ্ধান্তে গরিবের ওপর চাপ বাড়ছে: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৯:২৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও মানুষের আয় সে অনুযায়ী বাড়েনি।

এর ফলে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

 

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি ডিমের দাম ১৫ টাকা হওয়া নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য উদ্বেগের বিষয়। মাছ-মাংস নিয়মিত কেনার সামর্থ্য না থাকা বহু মানুষের জন্য ডিম আমিষের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। শিক্ষার্থী ও ব্যাচেলরদের খাবারের তালিকাতেও ডিমের বড় ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের ব্যয়ও বাড়ছে।

 

তিনি আরও বলেন, শুধু ডিম নয়—চাল, আটা, তেল, চিনি, মুরগি, মাছ ও সবজিসহ প্রায় সব মৌলিক খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা। অথচ সাধারণ মানুষের আয় একই হারে বাড়েনি। তার অভিযোগ, সরকারের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই পড়ছে।

 

নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বাজেট, জ্বালানি খাত এবং বাজারের সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক চাঁদাবাজিকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন নাহিদ। তার ভাষ্য, বাজেটের অর্থ জোগাতে ভ্যাট বাড়ানো, ঋণ নেওয়া কিংবা অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহ—যে পথই নেওয়া হোক, এর প্রভাব মূল্যস্ফীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে।

 

জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়লে সেচ, পোলট্রি, মাছ চাষ, হিমাগার, পরিবহন ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতের ব্যয় বেড়ে যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পরে সেই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা পণ্যের দামের মাধ্যমে ভোক্তাদের বহন করতে হয়।

 

নাহিদ ইসলামের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে ধনী শ্রেণির তুলনায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর চাপ বেশি পড়ে। কারণ তাদের আয়ের বড় অংশই খাবার ও অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়। ফলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে কোন প্রয়োজনটি বাদ দেওয়া যায়, সেই কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়তে হয় তাদের।

 

বিকল্প নীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধনীদের কর ফাঁকি বন্ধ করা, অপ্রয়োজনীয় বড় প্রকল্পের ব্যয় কমানো এবং নিত্যপণ্যের ওপর ভ্যাট কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দেওয়ার সুযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

সরকারের বিভিন্ন নীতির সুবিধা কারা পাচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন এনসিপির এই নেতা। তার অভিযোগ, একদিকে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, অন্যদিকে মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি চাপ পড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর।

 

এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে ডিমের দাম বেড়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এক ডজন ডিম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা বেশি। সাদা ডিমের ডজন ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকা এবং হাঁসের ডিম ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

বড় বাজারে ফার্মের বাদামি ডিমের এক হালি প্রায় ৫০ টাকায় পাওয়া গেলেও পাড়া-মহল্লার দোকানে তা ৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। নিম্ন আয়ের অনেক পরিবার একসঙ্গে চারটি না কিনে একটি বা দুটি করে ডিম কেনে। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি ডিমের দাম পড়ছে প্রায় ১৫ টাকা।

 

অন্যদিকে, প্রায় দুই মাস ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকার আশপাশে রয়েছে। ফলে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির মতো তুলনামূলক সাশ্রয়ী আমিষের উৎসের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য ব্যয়ও বাড়ছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর