[email protected] বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
২০ কার্তিক ১৪৩৩

শ্রমিক অসন্তোষে গাজীপুর-সাভারের ১৭৭ পোশাক কারখানা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬ ৬:৫৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুর ও সাভারের কয়েকটি শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট এলাকার ১৭৭টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

 

রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দিনের বিভিন্ন সময়ে সাভার ও আশুলিয়া এলাকার এসব কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

সকালে অধিকাংশ কারখানায় কাজ চললেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা উৎপাদন বন্ধ করে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন। পরে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে আশুলিয়ার নরসিংহপুরসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

 

শিল্প পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিশ্চিন্তপুর এলাকার আল-মুসলিম অ্যাপারেলস, নিউএইজ গ্রুপের একটি কারখানা এবং ট্রাউজার লাইন লিমিটেডের শ্রমিকেরা সকালে কাজ বন্ধ রাখেন। তারা নিজেদের কর্মস্থলে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।

 

পরে সকাল পৌনে ১১টার দিকে নরসিংহপুর এলাকায় কয়েকটি কারখানার শ্রমিক আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নেন। বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা স্লোগান দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে শিল্প পুলিশ তাদের সড়ক ছেড়ে পাশে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানায়।

 

পরিস্থিতি বিবেচনায় দুপুর ১২টার দিকে শারমিন গ্রুপের কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। একই এলাকার হা-মীম ও নিউএইজ গ্রুপসহ আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানাও বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আরও অনেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

 

অন্যদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রতনপুর এলাকায় করনী নিট কম্পোজিট ও নিট এশিয়াসহ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে সফিপুর বাজারসংলগ্ন মহাসড়কে অবস্থান নেন। তাদের বিক্ষোভের পর আশপাশের কয়েকটি কারখানায়ও ছুটি দেওয়া হয়।

 

এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। কিছুক্ষণ পর একই এলাকার ট্রপিক্যাল পোশাক কারখানার ঝুটের গুদামেও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায়।

 

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ট্রপিক্যাল কারখানার গুদামে আগুন লাগার খবর পেলেও শ্রমিক আন্দোলনের কারণে তাদের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়েন।

 

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, শিল্পাঞ্চলে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এফ/ডি

সম্পর্কিত খবর