[email protected] মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
১৯ কার্তিক ১৪৩৩

স্ত্রী থাকা অবস্থায় শ্যালিকাকে বিয়ে, নওগাঁয় টিকটকারকে ঘিরে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ৭:৩১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

নওগাঁর মহাদেবপুরে প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় শ্যালিকাকে বিয়ে করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন টিকটকার মাসুদ রানা।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার পর স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে তাঁর মুখে চুনকালি মাখিয়ে গলায় জুতার মালা পরানোর ঘটনা ঘটে।


ঘটনাটি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে ফেসবুক লাইভে এসে সমালোচকদের উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন মাসুদ রানা। লাইভে তিনি দুই বোনকে একসঙ্গে বিয়ে করার ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে জানেন বলেও মন্তব্য করেন। এতে বিতর্ক আরও বাড়ে।


এ পরিস্থিতিতে নওগাঁ জজ কোর্টের আইনজীবী শাহীন কাদির ডলার তাঁকে নিজের সেরেস্তার কাজ থেকে অব্যাহতি দেন এবং তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


এরপর বদলগাছীতে যে বাসায় ভাড়া থাকতেন, সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য স্থানীয়রা তাঁকে তিন ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন। পরে আসবাবপত্র ও দুই স্ত্রীকে নিয়ে মহাদেবপুরের মাতাজিহাট এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিতে যান তিনি।


সেখানে পৌঁছানোর পর স্থানীয়দের বিরোধিতার মুখে পড়েন মাসুদ রানা। একপর্যায়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে মুখে কালি মাখানো এবং গলায় জুতার মালা পরানোর পর এলাকা থেকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। পরে রাইগাঁ পুলিশ ফাঁড়ির সহায়তায় বিক্ষুব্ধ লোকজনের কাছ থেকে মুক্ত হন তিনি। দুই স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে সেখান থেকে চলে যান। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


পরে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান মাসুদ রানা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই রাতেই রাত ১১টার দিকে বদলগাছী এলাকায় আবার দেখা যায় তাঁকে। এ সময় এক ব্যক্তি তাঁর কাছে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চান। পরে ভিডিও বার্তায় নিজের কাজের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন মাসুদ রানা।


তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে এক স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ওই এলাকায় আর যাবেন না বলেও জানান। তবে তালাক দেওয়ার ঘোষণা কার্যকর হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


শ্যালিকাকে বিয়ে নিয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যা
জেলা কাজী সমিতির সভাপতি মাওলানা আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তাঁর আপন বোনকে বিয়ে করা শরিয়তসম্মত নয়। তবে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান হলে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী পরবর্তী বিয়ের সুযোগ রয়েছে।


এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


একটি বিয়েকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক, কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি, স্থানীয়দের বিরোধিতা এবং পরে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনা নওগাঁয় আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর