[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক ১৪৩৩

ঠাকুরগাঁওয়ে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি: সংকটে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৩৭ এএম

সংগৃহীত ছবি

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে ঠাকুরগাঁওয়ের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের

 জীবনযাত্রায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। দিনমজুরের অনিয়মিত আয় কিংবা বেসরকারি চাকুরিজীবীর নির্দিষ্ট মাসিক বেতন—কোনোটি দিয়েই পরিবারের দৈনন্দিন খরচ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

​শহরের কালীবাড়ি বাজার, রোড বাজার, বাসস্ট্যান্ড বাজার ও গোধূলী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত তিন মাসে চাল, ডাল, তেল, মাছ ও মাংসসহ প্রায় সব পণ্যের দামই বেড়েছে।

​আয়ের পার্থক্যে মিল রয়েছে একই সংকটে

দিনমজুর দবিরুল ইসলাম (৪৫) অন্যের জমিতে কাজ করে দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করলেও প্রতিদিন কাজ পান না। কাজ না থাকলেই পরিবার নিয়ে তাকে ধারদেনা করতে হয় বা খরচ কমাতে হয়। অন্যদিকে, বেসরকারি এনজিও চাকরিজীবী দুলাল হক (৩৭) নির্দিষ্ট বেতন পেলেও দুই সন্তানের পড়াশোনা, বাসাভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিটিয়ে মাস শেষের আগেই হিমশিম খান। আয়ের ধরন ভিন্ন হলেও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি দুজনের জন্যই সমান সংকট তৈরি করেছে।

​গত তিন মাসে পণ্যের দাম বৃদ্ধির চিত্র:

​চাল: পাইকারি বাজারে ৫০ কেজি বস্তায় দাম বেড়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। খুচরা বাজারে গুটি চাল ৫০ টাকা, সুমন সর্ণ ও ২৮ চাল ৫৫ টাকা এবং মিনিকেট ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

​ডাল ও তেল: মসুর ডাল ১৫০ টাকা, হাইব্রিড মোটা ডাল ৯০ টাকা, ছোলা বুট ১১০ টাকা এবং অ্যাংকার ডাল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে (কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বৃদ্ধি)। খোলা সয়াবিন তেল ২১০ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৪ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে।

​মাছ ও মাংস: ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা, সোনালি ৩১০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের ডজন ১৩০ টাকা।

​সবজি: আগাম শীতকালীন সবজি শিম, ফুলকপি ও মুলা বাজারে আসায় কিছু সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমলেও বেগুন, পটল ও করলার মতো অন্য সবজির চড়া দামের কারণে স্বস্তি ফেরেনি।

​ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের বক্তব্য

ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্য আনা-নেওয়ার ব্যয় বেড়ে গেছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। অন্যদিকে, সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, আয়ের সঙ্গে বাজারদরের সামঞ্জস্য না থাকায় পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

​ঠাকুরগাঁও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ.এস.এম. মাসুম-উদ-দৌলা জানান, বাজার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ালে বা মূল্যতালিকা না থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর