কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৫ এপ্রিল) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা ও বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন আইনজীবীও রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি নারীসংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে এক ব্যক্তিকে ঘিরে মারধরের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়।
পরে বিষয়টি নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়লে দুই গ্রামের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনার জেরে শনিবার বিকেলে কয়েকটি গ্রামের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাসকরা এলাকায় হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলায় অন্তত ছয়টি দোকান ও প্রায় ২০টি বাড়িঘরে ভাঙচুর করা হয়।
পাশাপাশি খড়ের গাদা ও কয়েকটি ঘরে আগুন দেওয়া হয়। হামলাকারীরা ঘরের মালামাল ও গবাদিপশুও লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংঘর্ষ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। এতে কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির এক সদস্যসহ কয়েকজন আহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় অপর পক্ষও সোনাপুর গ্রামের একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে চারটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও কাজ করেন।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এলাকায় সক্রিয় কিছু কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাদের বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এসআর